
মহলের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নঃ
আহসান হাবিব রুবেল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি- দৈনিক অনন্ত বাংলা।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি ও নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রুহিয়া উপজেলার ঢোলারহাট ও রাজাগাঁও ইউনিয়ন এর টাঙ্গন নদীতে চলছে দেদারছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ার নেতৃত্বে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনে ও রাতে সমানতালে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে একদিকে যেমন ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ, অন্যদিকে ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি ও নদীপীরবর্তী বসতি।
প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে লুটপাট
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখান থেকে স্থানীয় থানা এবং উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জনানো হলেও রহস্যজনক কারণে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসবের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “প্রশাসনের নাকের ডগায়” এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা যেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী অংশ এই অবৈধ বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রভাব খাটিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক বালুমহল জানান, আমরা বালুঘাট চালানোর জন্য প্রভাবশালী নেতাদের কয়েকলক্ষ টাকা দিয়েছি। নতাদেরকে টাকা কেন দিয়েছেন এবং কাকে দিয়েছেন? এমন পশ্নের জবাবে, তারা বলেন, দলীয় পরিচয় কয়েকজন । তাদেরকে টাকা না দিলে আমাদেরকে হামলা-মামলার হুমকি দেওয়া হয়। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নদী দখল করে বালু বিক্রির এই মহোৎসবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বহু কৃষিজমি ও গাছপালা। বর্ষা মৌসুম আসলেই ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটান তীরবর্তী মানুষগুলো। এছাড়া অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাক্টরের চলাচলের কারণে এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উড়ে চলা বালুর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রুহিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আলাউদ্দিন এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের এই গতানুগতিক আশ্বাসের বাইরে বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।