1. admin@anantabangla.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন
অনন্ত বাংলা শিরোনাম :
একাত্তরের চেতনা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের সংজ্ঞা চাটখিলে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাংচুর, লুটপাট ও গাছ কাটার অভিযোগ ভান্ডারিয়ায় রং মিশিয়ে মাছ বিক্রি, ভিডিও করায় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ চাটখিলে শত বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল, ভেঙে পড়ার শঙ্কা! মারা গেছেন এনসিপি নেত্রী রাফিয়া সুলতানা হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত: ধর্মমন্ত্রী সেবার মান উন্নয়নে চাটখিল স্কয়ার হসপিটালে আধুনিক অটোমেশন ল্যাব: রোগীদের স্বস্তি চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের জীবন সংকটাপন্ন অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: চাটখিলে দুই হাসপাতালকে অর্থদণ্ড চাটখিল সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

আল্লাহ তাআ’লা-র পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার ঈদ

দৈনিক অনন্ত বাংলা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫
  • ১৫৭ বার পঠিত

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত..
اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰهِ الۡاِسۡلَامُ ۟
অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম। (সূরা- আলে-ইমরান-১৯)
অপর আয়াতে বর্ণিত
وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ
অর্থ: আমি সৃষ্টি করেছি জিন ও মানুষকে এ জন্য যে, তারা আমারই ইবাদাত করবে। (সূরা- আয-যারিয়াত-৫৬)
ইসলাম হলো আল্লাহ তাআ’লার একমাত্র মনোনীত ও স্বীকৃত জীনবব্যবস্থা। ইসলাম ব্যতীত বাকি সকল ধর্ম কোনো শর্ত ছাড়াই বাতিল!
শুধুমাত্র মুসলমানদেরকে আল্লাহর ইবাদাত করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে বিষয়টি এমন নয় বরং ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাইকে আল্লাহ তাআ’লার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তবে যখনই মানুষ আল্লাহ তাআ’লা মনোনীত ধর্ম-কে না মেনে নিজের তৈরিকৃত ধর্মে চলতে শুরু করলো তখন থেকে তাদের উৎসব বা ইবাদত সব-ই ভিন্ন। কিন্তু মুসলমানদের উৎসব বা ইবাদত সব কিছু ঠিক করে দিয়েছেন মহান রব্বুল আলামীন।
সুতরাং মুসলমানদের সকল কাজকর্ম হবে ইসলাম সম্মত অর্থাৎ আল্লাহ তাআ’লার দেওয়া বিধান অনুযায়ী। একজন মুসলিম কখন-ই তার জীবন চলে গেলেও নিজেদের ধর্ম বা আদর্শ জলাঞ্জলি দিতে পারে না।
আল্লাহ তাআ’লার পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য দুইটি উৎসব নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রথমটি হল ঈদুল ফিতর (যা দীর্ঘ সিয়াম-সাধনার পর) আল্লাহর বান্দাদের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি বা উপঢৌকন, ইসলামি সংস্কৃতি।
দ্বিতীয়টি হল ঈদুল আযহা যা জিলহজ্জ মাসে সংঘটিত হয় হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর স্মৃতি বিজড়িত অনুষ্ঠান বা ইসলামি সংস্কৃতি।
মূলত ওইদিন আল্লাহ তাআ’লার নামে পশু কুরবানি করা মুসলমানদের মূল তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। আরও মজার বিষয় ঐ সময় অর্থ্যাৎ জিলহজ্জ মাসের ১০-১১-১২ তারিখ আল্লাহ তাআ’লার পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য দাওয়াত। ঐ তিন দিন সকল মুসলমান আল্লাহ তাআ’লার মেহমান। আর ঐ তিনদিন রোজা রাখা হারাম যেহেতু আল্লাহ তাআ’লার মেহমান বলে কথা।

“ধর্ম যার যার উৎসব সবার” গভীর ষড়যন্ত্র।
এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কোনো বিধর্মী কি আমাদের এই ধর্মীয় উৎসবে কখন আসবে? তারা কি গরু জবাই করবে?
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে গরু তাদের “মা” আর মা হত্যাকে জঘন্য অপরাধ। অপর দিকে বৌদ্ধ ধর্মে তো জীব হত্যাকে মহাপাপ হিসেবে অবিহিত করেছন। (তবে রোহিঙ্গা বা মানুষ হত্যা পূণ্যের কাজ)

তারা কি পারবে? না! জীবন চলে গেলেও তারা মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় উৎসবে আসবে না। কিন্তু আমরা মুসলিম। এক তো সৃষ্টির সেরা জীব। দ্বিতীয়ত সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাগ্যবান উম্মত। এতো কিছুর পরেও আমরা মুসলিমরা আমাদের আদর্শ, আমাদের মর্যাদা বা আত্মসম্মানবোধ হারিয়ে ফেলছি বলে-ই নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। অতি উৎসাহিত হয়ে
ভিন্ন ধর্মমাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসবে চলে যাই। (আফসোস!)
খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো বড়দিন। যা প্রতি বছর ২৫ই ডিসেম্বর পালিত হয়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় অনুষ্ঠানটা খ্রিস্টানদের হলেও সেই অনুষ্ঠানে খ্রিস্টানদের চেয়ে মুসলমাদের সংখ্যাটা বেশি। এটা ছাড়াও খ্রিস্টানদের হোলি উইস,মন্ডি থারস ডে,গুড ফ্রাইডে ও স্টার সানডের মতো অনুষ্ঠানে মুসলমানদের সংখ্যা অবাক করার মত।
ভিন্ন ধর্মের মধ্যে আমাদের দেশে হিন্দুরা খুবই পরিচিত। বলা হয়ে থাকে হিন্দুদের ১২ মাসে ১৩ পূজা। স্বরস্বতী,মহালয়াসহ তাদের অসংখ্য ধর্মীয় উৎসব আছে তবে এগুলোর মধ্যে দূর্গা পূজা হলো তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তারা তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানান আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাদের দূর্গা পূজা পালন করে থাকে। একই গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে হিন্দু মুসলিম একসাথে বসবাস করার কারণে হিন্দদের ধর্মীয় উৎসবে মুসলমানরা হরহামেশাই চলে যায়। এদেশে হিন্দু বা ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হলো সর্বোচ্চ ১০-১২% কিন্তু হিন্দুদের পূজা গুলো দেখলে মনে হবে বাংলাদেশ মনে হয় হিন্দু প্রধান দেশ। যা মুসলিম জাতির জন্য বিশাল লজ্জার বিষয়। ভিন্নধর্মীদের ধর্মীয় উৎসবে যাওয়া আমাদের জন্য জায়েজ হবে কিনা বা এই বিষয়ে আমাদের ধর্ম কি বলে! এটা আমরা অনেকেই জানিনা বা জানার খুব বেশি চেষ্টাও করি না!
বিধর্মীদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা হারাম। শুধু হারাম নয় তাদের এগুলোর বিরোধিতা করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের উৎসবে যাওয়া প্রকাশ্যে কুফুরির ঘোষণা দেওয়ার নামান্তর। (এটা ঈমান থাকা না থাকার বিষয়)
এই বিষয়ে হযরত ওমর ফারুক রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উপাসনালয় তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করো না।কারণ সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে। (বায়হাক্বী ১৮৮৬১)। হযরত তাবারী (রহ) বলেন, মুসলিমদের জন্য অন্য ধর্মাবলম্বীদের কোনো উৎসবে যাওয়া একদম অবৈধ কাজ। কারণ তারা গর্হিত ও মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি কোনো ঈমানদার ব্যাক্তি তাদের কোন অনুষ্ঠান বা উৎসবে যায় এবং তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে। তাহলে তার জন্য আমার খুবই ভয় লাগছে এই কারণে যে আল্লাহ তাআ’লা তার উপর গযব নাযিল করবেন।

আজ মানুষের বিবেক কোথায়? কেন তাদের উৎসবে যাব? তার মনগড়া ধর্ম প্রচার করছে, শিরক করছে। নিজেদের হাতে তৈরি প্রতিমা, নিজেরাই আবার বিসর্জন দিচ্ছে। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত সে তার ধর্ম নিয়ে গবেষণা করা।

মুসলমানদের ঈমান আমল নষ্ট করার জন্য গভীর এক ষড়যন্ত্র, তা হলো “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র যা একজন মুসলমানের ঈমান আকিদা নষ্ট করে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার পথ দেখাব। নাউজুবিল্লাহ

তাই আসুন সচেতনতা তৈরি করি। ইসলাম ও মুসলিম জাতির নিকট সত্য তুলে ধরি। প্রতিটি মসজিদে খতিব সাহেবগন সাধারণ মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা ঠিক রাখতে তাদেরকে উপযুক্ত বিষয় জানাতে হবে।
আল্লাহ তাআ’লা আমাদের সকলকে তাঁর দ্বীন মেনে সকল উৎসব পালন করার তৌফিক দান করুক। আমিন

মাওলানা আসআ’দ বিন হাসনাত

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২৪ দৈনিক অনন্ত বাংলা
Theme Customized BY SHAKIL IT PARK