
নোয়াখালী চাটখিল পৌরসভার দক্ষিণ বাজারস্থ বেসরকারি হাসপাতাল চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক ডা. রাফিয়া ইসলামের ভুল চিকিৎসায় চাটখিল উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের আহসান উল্লাহর মেয়ে আয়েশা আক্তার (২৪) ও নবজাতক সন্তানের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও নবজাতক ঢাকা প্যানকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আয়েশা আক্তার প্রসব বেদনা নিয়ে বিগত (২১ ফেব্রুয়ারি) শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হয়। পূর্বে চাটখিল স্কয়ার হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সম্ভব বলে জানিয়েছিল। তবে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর স্টাফ জেসমিন আক্তার ও ম্যানেজার শামীমসহ হাসপাতালের লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন প্রয়োজন বলে পরিবারের সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করে এবং এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ওটি রুমে নিয়ে যায়। এরপর দুপুর ১টার দিকে পার্শ্ববর্তী বারাকা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ডা.রাফিয়া ইসলাম-কে ডেকে এনে সিজার শুরু করে। তাড়াহুড়া করে সিরাজেরর সময় ভুলবশত প্রসূতির পস্রাবের থলি কেটে ফেলা হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। শুধু তাই নয় নবজাককে জোরপূর্বক টেনে বের করার সময় মাথায় প্রচন্ড আঘাত লেগে থেতলে যায়। অবস্থার অবনতি দেখে মা আয়েশা আক্তার ও নবজাকতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে মা আয়েশা আক্তারকে প্রথমে ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সেখানে প্রায় দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপরদিকে নবজাতককেও ঢাকার প্যানকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আয়েশা আক্তারের বাবা আহসান উল্লাহ বলেন, চাটখিল স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক রাফিয়া ইসলামের ভুল চিকিৎসার কারণে “তার মেয়ে ও তার নাতনি প্রায় দেড় মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বর্তমানেও তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করে এবং চিকিৎসার সব খরচ ডাক্তার বহন করবে বলে আশ্বাস দিলেও ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন আর কোনো যোগাযোগ করছে না।
এ বিষয়ে চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালের ম্যানেজার মোহাম্মদ শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমরা রোগীর পরিবারের সঙ্গে ডাক্তারের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছি। ডাক্তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।”
তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রাফিয়া ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।