
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর বলছে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে আমেরিকান অস্ত্র ব্যবহারে ইউক্রেইনের ওপর আর নতুন কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট নেটো।
এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাদপ্তর পেণ্টাগন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে আমেরিকান অস্ত্র ব্যবহারে ইউক্রেইনের ওপর নতুন আর কোনও বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্র আরোপ করবে না।
উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন পশ্চিমাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ, ইউক্রেইনে আড়াই বছরের সংঘাত এতে আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
“রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক এবং ইউরো-আটলান্টিক উভয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি,” উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর নেটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে সাংবাদিকদের একথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এই সহযোগিতা ‘খুবই বিপজ্জনক’। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ব রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের জন্য উত্তর কোরিয়া প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠিয়েছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র সাবরিনা সিং বলেছেন, “এই সেনাদের একটি অংশ ইতোমধ্যে ইউক্রেইনের কাছাকাছি চলে গেছে।
“আমরা ক্রমশ উদ্বিগ্ন হচ্ছি এবং আশঙ্কা করছি যে, রাশিয়া এই সেনাদের যুদ্ধে ব্যবহার করতে পরে, কিংবা ইউক্রেইন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার কুরস্ক ওব্লাস্ট এলাকায় ইউক্রেইনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযানে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সহায়তা নিতে পরে।”
ক্রেমলিন প্রাথমিকভাবে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের খবরকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।
তবে বৃহস্পতিবার পুতিন উত্তর কোরিয়ার সেনাদের রাশিয়ায় থাকার কথা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, “পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সেটি মস্কোর কাজ।
রুশ নেতা কিছুদিন আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা যদি ইউক্রেইনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা অস্ত্র দিয়ে আঘাত হানতে সহায়তা করে তবে মস্কো সে অনুযায়ী জবাব দেবে।
ইউক্রেইনকে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করতে দেওয়ার ক্ষেত্রে মস্কো পশ্চিমাদের সম্ভাব্য অনুমোদনকে যুদ্ধে “নেটোর সরাসরি জড়িত” হওয়ার পদক্ষেপ হিসাবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য রাশিয়ার ভূখন্ডের অনেক গভীরে মার্কিন অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেইনের হামলা চালানোর অনুরোধ রাখবেন কিনা সে ব্যাপারে কোনও ইঙ্গিত দেননি।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাশিয়ায় সেনা মোতায়েনের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সত্যতা নিশ্চিত না করলেও বলেছেন, পিয়ংইয়ং যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে যাবেনা।
ইউক্রেইনীয় সামরিক গোয়েন্দারা বৃহস্পতিবার বলেছে, কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চলে উত্তর কোরিয়া থেকে সামরিক ইউনিট ইতোমধ্যেই রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী যে ইতোমধ্যেই কুরস্কে অবস্থান করছে তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পেন্টাগন। “সম্ভবত তারা কুর্স্কের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। তবে আমার কাছে এখনও বিস্তারিত কোনও তথ্য নেই,” বলেন পেন্টাগনের মুখপাত্র সাবরিনা সিং।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এ পদক্ষেপ নিয়ে রাশিয়া উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। ইউক্রেইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কিইভ কয়েক সপ্তাহ ধরে এই সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সতর্ক করে আসছিল।
গত বছর রাশিয়ায় বৈঠকের পর থেকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া তাদের সামরিক সম্পর্ক উন্নত করেছে। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্বাক্ষরের জন্য নেতারা জুনে আবার বৈঠকে বসেন।
নেটো মহাসচিব রুত্তে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন পুতিনের আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকার লক্ষণ। পুতিনের যুদ্ধে ছয় লাখেরও বেশি রুশ সেনা নিহত বা আহত হয়েছে এবং তিনি বিদেশি সমর্থন ছাড়া ইউক্রেইনে হামলা চালিয়ে যেতে পারবেন না।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাক বলেছেন, “ইউক্রেইন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার জড়িত হওয়ার জবাবে কেবল নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই যথেষ্ট হবে না। উত্তর কোরিয়াকে ঠেকাতে কিইভের অস্ত্র ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
“শত্রু শক্তি বোঝে। আমাদের মিত্রদের এই শক্তি রয়েছে, ” এক্স-এ বলেন ইয়ারমাক।