
নেত্রকোনা শহরে দিন দিন বেড়েই চলেছে ভিক্ষাবৃত্তি। অসহায় পঙ্গুত্ব ও প্রতিবন্ধীদের ছাড়াও দল বেঁধে চলে এই ভিক্ষাবৃত্তি। এতে করে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নেত্রকোনা শহরের জনসাধারণ।
সরেজমিনে শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভিক্ষুক তানজিনা আক্তার, শামসুর নাহার, আব্দুল খালেক, ও জাকিরুল, এদের মধ্যে কেউ কেউ বয়স্ক-বিধবা, কেউবা প্রতিবন্ধী। তারা দরিদ্র্যতার ধাক্কায় দলবেঁধে নেমেছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। সকাল হলেই ছুটছেন গ্রাম থেকে শহরে। জীবিকার সংগ্রামে হাত পাতছেন বাসা-বাড়ি ও পথচারিদের কাছে। শুধু তারাই নন এমন অসংখ্য ভিক্ষুকের জটলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নেত্রকোনা শহরবাসী।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে আরোও দেখা যায়, নেত্রকোনা আদালত চত্বর, বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, বড়বাজার মার্কেট, শহীদ মিনার মোড়সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এবং জনাকীর্ণ এলাকায় হাত পাতছেন দলে দলে ভিক্ষুক।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দ্রব্যমূল্য অগ্নিমূল্যসহ নানা কারণে দরিদ্র্য পরিবারে বেড়েছে ভিক্ষাবৃত্তি। এছাড়া শারীরিক অক্ষমতা,পঙ্গত্ববরণ,বিধবা হওয়া,নদী ভাঙনে নিঃস্ব, অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসাসেবা, মেয়েকে পাত্রস্থ ও সন্তানদের কাছে বিতাড়িত হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামছেন তারা। তাদের কেউ বলেছেন অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসাসেবা, রোগাক্রান্তে পঙ্গত্ববরণে ভিক্ষুক সেজেছেন। কেউবা জানিয়েছেন স্বামী মারা গেছেন, সন্তানেরা দেখেন না, আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়ায় বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি পেশা। আবার অনেকে বাণিজ্যিক হিসেবেও এই কাজটি করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
জাকিরুল ইসলাম নামে এক ভিক্ষুক (৪৫) জানান, নানা অভাব-অনটনের সংসার তার। এক সময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। এরই মধ্যে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছেন। তাই পরিবারের চাহিদা পূরণের চেষ্টায় অন্যের কাছে হাত পাতছেন তিনি।
শামসুর নাহার (৩৫) নামের আরেক ভিক্ষুক বলেন, এক বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছেন। দুই ছেলের সংসার তেমন চলে না। তাই নিজেকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে।
এছাড়াও আব্দুল খালেক (৬৫) জানান, তার তিনটি ছেলে তেমন খোঁজ-খবর রাখেন না। আর সবকিছুর দাম বেড়েই চলেছে। এতে করে ব্যয়ভার সামাল দিতে ভিক্ষা করেই স্ত্রীকে নিয়ে জীবন পার করছেন।
এদিকে সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট শাহিনুর রশীদ, বিল্লাল হোসেন, লাল মিয়া সহ অনেকেই বলেন,আগের তুলনায় ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার দিনব্যাপী ভিক্ষুকের ভিড় লেগেই থাকে। তাদের আনাগোনায় অতিষ্ট সাধারণ মানুষও।
এবিষয়ে সংবাদকর্মী সারোয়ার পারভেজ বাবু বলেন, সমাজ থেকে ভিক্ষুক হ্রাস কল্পে প্রথমত প্রতিবেশীদের সহানুভূতিশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের সুবিধাগুলো জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সুষম বন্টন অবশ্যক।
নেত্রকোনা জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ শাহ আলম মোবাইল ফোনে বলেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষে ইতোমধ্যে শতাধিক নারী-পুরুষকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।