
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের ৮০ কেজি করে চাল দেয় সরকার। তবে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জেলেরা।
তাদের অভিযোগ, ৫০০ টাকা কারও কাছ থেকে ১ হজার টাকা নিয়ে জেলে চালের টুকেন নির্দান করে। এমন অভিযোগ ওঠেছে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের ৪নং ওর্য়াডে। জেলা মৎস্য অফিস সূত্র, জেলায় পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলা রায়পুর, লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর ও রামগতির মেঘনা উপকূলীয় জেলের সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। সরকারি তালিকায় নিবন্ধিত জেলে ৪৩ হাজার ৪’শ ৭২ জন। চারটি উপজেলায় মোট ২৮ হাজার ৩’শ ৪৪ জেলে পরিবারের জন্য ২ হাজার ২’শ ৬৭ মেট্রিক টন জেলে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ আসে। এ নিষেধাজ্ঞার সময় থেকে চার মাস প্রতি জেলে ভিজিএফের চাল পাবে ১৬০ কেজি। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞার সময় মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রম ঘোষিত করা হয়েছে।
সদর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র, সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নে জেলে সংখ্যা ২ হাজার ১’শত ১১ জন। তাদের মধ্যে চাল বরাদ্দ হয়েছে ৩ হাজার ৭ জনের। জেলেরা সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, শাহাজান মেম্বারের বিরুদ্ধে। জেলা মৎস্য অফিসে ও সদর উপজেলা মৎস্য অফিসে গিয়ে জেলে চালের বিষয় অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলেদের অভিযোগ হলো প্রকৃত জেলে চাল না পেয়ে কৃষকরা, প্রবাসীরা, ব্যবসায়ীরা চাল পাচ্ছে জেলেদের।
জেলে মামুন মুন্সি বলেন, শাহজান মেম্বার আমার কাছ থেকে টাকা চাইছে জেলে কার্ডের টুকেনের জন্য। জেলে চাল বিতরণের আগের দিন টাকা চেয়েছে। টাকা দিলে টুকেন দিবে। ওয়াব ডালি বলেন, আমি আজ থেকে ৩০ বছর ধরে জেলে। মেম্বার আমার বাড়িতে গিয়ে বলে আমার নাম লিস্ট থেকে কাটা গেছে। লিস্টের নাম ঠিক করতে হলে ১ হাজার টাকা দিতে হবে।
আবুর পর্দ্দান বলে, মেম্বার নামগুলো নিজেই কেটে এখন আমাদেরকে বলে নাম বাদ গেছে। আমি নিজেই দেখেছি অন্য ওর্য়াডে এমনটি করেছে অন্য আরেক জন। তাই আমি নিজেই বলতে পারি আমাদের নামগুলো মেম্বার নিজে কেটে আমাদের জেলে চাল থেকে বঞ্চিত করতে এমন কাজ করে।
এ বিষয় জানতে চাইলে ট্যাক অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, এখানে আমি নিজেই আছি। জেলেদের চালে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। কারণটি হলো যাদের নাম রয়েছে তাদের চাল দেওয়া হচ্ছে। নামের পাশাপাশি তাদের জেলে কার্ড চেক করা হচ্ছে। আর টুকেন এর বিষয়টি বলতে পারছি না।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রকৃত জেলে যারা তারা চাল পাবে। আর যারা চাল পায়নি তারা জেলে কার্ড নিয়ে প্রকৃত জেলে পরিচয় নিয়ে অফিসে আসবে। আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের চালের বিষয়টি দেখা হবে। এর আগে ১৫ জন জেলে অফিসে এসেছে তারা চাল পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলেরা চাল পাবে। জেলেদের মধ্যে রয়েছে অনেকে প্রবাসী, ব্যবসায়ী, কৃষক, কেউ আবার মৃত তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে।