
সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :
নেত্রকোনায় মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এই রমজান মাসে এক শ্রেণির অসাধু খাসির মাংস ব্যবসায়ী ও মাছ ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করেই মাংস ও মাছসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জানা যায়, প্রশাসন যখন অভিযান করে তখন দাম কিছুটা নাগালের ভেতরে থাকে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম ব্যবসায়ীরা মানছেন না। রবিবার সরেজমিনে (৯ মার্চ) শহরের মাছুয়া বাজার, রেলক্রসিং বাজার সহ বেশ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতারা খাসির মাংস ও মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে আবার মাছ ও মাংস না কিনেই খালি ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। খাসির মাংসের দাম বেড়ে ১১৫০ টাকা।
এসব বাজারে খাসির মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের মাছ থাকলেও ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো ক্রেতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত দামে মাছ ও মাংস বিক্রি করতে দেখা গেছে। ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা, রুই মাছ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ১৮০-১৯০ টাকা, মলা মাছ ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-১৯০ টাকা, শলা চিংড়ি ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা, পোমা মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৩৭০ টাকা, কোরাল মাছ ৬৫০ টাকা, তাপসী মাছ ৭০০ টাকা, গুড়া মাছ ৩০০ টাকা, ঢেলা মাছ ৪০০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তাছাড়া সামুদ্রিক মাছ আরো অতিরিক্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মাছ ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী ও সাইদুল হোসেন বলেন, আমরা যে দামে মাছ ক্রয় করি তার চেয়ে সামান্য লাভে আমরা বিক্রি করি। এই রমজানে বাজারে চাহিদার চেয়ে মাছের সরবরাহ কম তাই মাছের দাম একটু বেশি। এবিষয়ে ক্রেতা মাসুদুর রহমান বলেন, এই বাজারে প্রশাসনের যদি নিয়মিত মনিটরিং করা হতো তাহলে মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের ভেতরে চলে আসত। এদিকে রিকশাচালক লিটন হোসেন বলেন, আমাদের পক্ষে বর্তমান বাজারে মাছ ও মাংস কিনে খাওয়া সম্ভব না। আমরা শুধু দেখেই যাবো। এবিষয়ে এক সংবাদকর্মী অভিযোগ করে বলেন, বাজারে প্রায় সময়ই মাছে রং দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কালার তৈরি করে অতিরিক্ত দামে মাছ বিক্রি করে বিক্রেতারা। এদিকে নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক জানান, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। যদি কোনো ব্যবসায়ী ইচ্ছে করে অতিরিক্ত দামে মাছ মাংস সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।