কুমিল্লায় গভীর রাতে যৌথ বাহিনীর হাতে আটক এক যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অমানবিক নির্যাতনের ফলে মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪০) নামের ওই যুবদল নেতা মারা গেছেন।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১২ টায় অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তৌহিদুল ইসলাম কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন এবং তিনি ইটাল্লা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে একটি শিপিং এজেন্টে চাকরি করতেন। গত রবিবার তার বাবা মোখলেছুর রহমানের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। শুক্রবার তার বাবার কুলখানি হওয়ার কথা ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তৌহিদুল ইসলামের ভাই সাদেকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারা বাবার কুলখানির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে আসেন। তাদের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরা কাউকে দেখা যায়নি, তবে সাদা পোশাকে পাঁচজন যুবক ছিলেন। তারা তৌহিদুলকে আটক করে, এরপর সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ঘরে তল্লাশি করেন, কিন্তু কিছু পাননি। তৌহিদুলকে আটকের কারণ জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো উত্তর দেননি এবং তাকে গাড়িতে করে নিয়ে যান।
সকালে আবারও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে এসে ব্যাপক তল্লাশি করেন উল্লেখ করে সাদেকুর রহমান বলেন, “তখনো কিছু পাননি। সকালেও তৌহিদুল তাদের গাড়িতে ছিলেন। কিন্তু তাকে গাড়ি থেকে নামানো হয়নি। দূর থেকে তাকে নিস্তেজ মনে হচ্ছিল।”
তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিন নাহার বলেন, “আমার চারটি মেয়ে এখনও ছোট। আমি জানি না, কীভাবে তাদের নিয়ে বাঁচব। মেয়েদের কান্না থামছে না, প্রিয় বাবা বুঝি আর ফিরবে না। আমি তাদের কিভাবে বুঝাবো? আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। তাকে কেন নির্যাতন করে হত্যা করা হলো? আমি পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং বিচার চাই।”
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, “শুক্রবার দুপুরের দিকে পুলিশ তৌহিদুল ইসলামকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, তাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”