1. admin@anantabangla.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
অনন্ত বাংলা শিরোনাম :
একাত্তরের চেতনা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের সংজ্ঞা চাটখিলে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাংচুর, লুটপাট ও গাছ কাটার অভিযোগ ভান্ডারিয়ায় রং মিশিয়ে মাছ বিক্রি, ভিডিও করায় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ চাটখিলে শত বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল, ভেঙে পড়ার শঙ্কা! মারা গেছেন এনসিপি নেত্রী রাফিয়া সুলতানা হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত: ধর্মমন্ত্রী সেবার মান উন্নয়নে চাটখিল স্কয়ার হসপিটালে আধুনিক অটোমেশন ল্যাব: রোগীদের স্বস্তি চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের জীবন সংকটাপন্ন অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: চাটখিলে দুই হাসপাতালকে অর্থদণ্ড চাটখিল সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

কৃষকের জমি ভরা ধান আছে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গোলাঘর

সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ২৩০ বার পঠিত
গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ-দুয়ে মিলে বলা হতো ধনী মানুষ। কয়েকযুগ আগে গ্রাম বাংলার কৃষকদের বাড়িতে দেখা মিলত ধান রাখার গোলাঘর বা ধানের গোলা। আধুনিক সভ্যতায় ইমারতের তৈরি গুদাম ঘর আধুনিক যুগে হারিয়ে গেছে এ ঘর। তবে বাবা-দাদার ঐতিহ্যকে স্মৃতির ফলক হিসেবে ধরে রাখতে এখনো কেউ কেই বাড়িতে এ গোলা ঘর রেখে দিয়েছেন। এমনই ধান রাখার জরাজীর্ণ পৃথক দুটি আয়তাকার গোলা ঘড়ের দেখা মিলেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর,কলমাকান্দা উপজেলার বেশ কয়েকটি বাড়িতে। কলমাকান্দা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক বলেন,কলমাকান্দায় ঐতিহ্যের বাহক হিসেবে অনেক বাড়িতে দাঁড়িয়ে আছে আয়তাকার গোলা ঘর। তিনি বলেন,বাপ দাদারা এ গোলা ঘর গুলো তৈরি করেছিলেন। পুরোটাই বাঁশের তৈরি এ গোলাঘর। ভেতরের অংশের পুরো দেয়াল মাটির আস্তরণ দেয়া। বাইরে অর্ধেকের বেশি অংশ জুড়ে মাটির আস্তরণ লাগানো আছে। কয়েক জোড়া গাছের খুঁটি এবং ইটের উপর দাঁড়িয়ে আছে এ গোলা ঘর গুলো।
আরো জানা যায়, মাটি থেকে প্রায় দুই ফুট উপরে এ ঘরের মেঝে সেখানেও বাবহারিত হয়েছে বাঁশের উপরে মাটির মোটা আস্তরণ। উপরে রয়েছে টিনের চালা। চালার ঠিক নিচেই রয়েছে ছোট্ট ৩টি দরজা। সে ছোট্ট দরজা দিয়েই এক সময় সোনালী ধান উঠানামা করানো হতো। সে ঘর দুটিতে এখন ধানের বস্তা নেই। আছে বাড়িতে ব্যবহারিত অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এক সময় কন্যা পাত্রস্থ করতেও বর পক্ষের বাড়ি থেকে ধানের গোলার খবর নিতো কনে পক্ষের লোকজন, যা এখন শুধু রূপকথা। এ গোলা ঘর তৈরির জন্যই প্রয়োজন হতো কারিগরের। সেসব কারিগররাও এখন আর নেই। দূর্গাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক খান বলেন, এই ধান রাখার গোলা ঘর আমার দাদার আমলে তৈরি। সেটি আমার বাবাও ব্যবহার করেছেন। আমি এখন পর্যন্ত এটি ব্যবহার করছি।
তিনি আরও বলেন, এখন আর গোলা ঘরের তেমন প্রয়োজন হয় না। জমি থেকে ধান কাঁটার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসায়ীরা ধান কিনে নেয়। শুধু বাড়িতে যাওয়ার জন্য যে পরিমান চালের প্রয়োজন, সে পরিমান ধান বাড়িতে রাখা হয়। এ ধানের গোলা আমার পরিবারের, স্মৃতি বহন যায়। তাই এটি না ভেঙ্গে এভাবেই রেখে দিয়েছি। ভবানীপুর গ্রামের ৮৩ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, এই বড় বড় ধানের গোলা আগে সব বাড়িত দেখাও ছিল না। বড়লোক গৃহস্থের বাড়ির খালি আছিল। এ গোলা বানাতে সে আমলেত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। এখনকার যুগের ছোট মাইয়া-পোলতো গোলা কি জিনিস জানেই না। গোলা ঘর নিয়ে লুৎফর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, আধুনিকতার যুগে প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যর অনেক নিদর্শন হারিয়ে গেছে। তারমধ্যে ধান রাখাও গোলাঘর একটি। এক সময় গ্রামীণ জনপদের ধনী কৃষকদের বাড়িড়ে গোলাঘর এর দেখা মিলত। এ ঘরে রাখা ধান হতো বেশ শক্ত। সে ধানের চাল হতো বেশ সুস্বাদু। আগামী প্রজন্মের জানান জন্যে হলেও এসব গ্রামীণ বিলুপ্ত প্রায় ঐহিত্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২৪ দৈনিক অনন্ত বাংলা
Theme Customized BY SHAKIL IT PARK