
গত জুলাই বিপ্লবে নিহত রমজান হত্যায় শেখ হাসিনার বিচার চান নিহত রমজানের স্ত্রী নূরুন্নাহার। তিনি বলেন আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।যে বা যারা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই। আমি আমার স্বামীর হত্যার জন্য শেখ হাসিনার বিচার চাই। এভাবে কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলছিলেন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের হ্যালমেট বাহিনী ও পুলিশের গুলিতে নিহত নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার রমজান আলীর স্ত্রী নূরুন্নাহার। নিহত রমজান আলীর একমাত্র ছেলে কাঠমিস্ত্রি কামাল হোসেন (২০) মেনেই নিতে পারছেন না তার বাবার অকাল মৃত্যু। নিহত রমজান আলীর মেয়ে নূরজাহান (১৫) স্হানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।জানা যায় গত (৪ ডিসেম্বর) উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুধি গ্রামে নিহত রমজান আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। বলছিলাম এই গ্রামের মৃত নূর হোসেনের একমাত্র ছেলে নিহত রমজান আলীর (৪০) কথা।যে রমজান আলী গত (৫ আগস্ট) রাজধানী ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত রমজান আলীর ছেলে কামাল হোসেন জানালেন ভয়াবহ সেই দিনের কথা। সেদিন (৫ আগস্ট) সকাল ৮টায় তার বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এবং দুপুরে বাসায় এসে পরিবারের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করে আবারও কাজে চলে যান। সেইদিন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো রাত ১০টা বেজে গেলো কিন্তু বাবা কাজ শেষ করে আসছেন না। বাবা ফোনও ধরছেন না। আমাদের কোনো ঘুম নেই চোখে। তখন আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বাবার খোঁজ খবর নিতে লাগলাম তখন হঠাৎ করে রাত ১২ টার সময় বাবার ফোন এলো। তখন অন্য প্রান্ত থেকে একজন বললেন আপনারা ঢাকা মেডিকেলে আসেন। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে আছেন। তখন আমি বাবার এমন খবরে নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। তখন আমার শরীরটা দূর্বল হয়ে এসেছে। তখন বাহিরে থমথমে পরিস্থিতি।
তখন আমি আমার খালু ও মাকে নিয়ে অনেক কষ্ট করে রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখি বাবা মুমূর্ষ অবস্থায় পড়ে আছেন বাবার মুখে অক্সিজেন লাগানো। তখন হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানালেন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুকে ও ডান হাতের বাহুতে গুলি লেগেছে। তাকে বাঁচানোর জন্য রক্তের প্রয়োজন। তখন অনেক কষ্ট করে রক্ত পাওয়া গেলেও বাবাকে আর বাঁচানো গেল না। তখন (৬ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে মারা গেলেন আমার বাবা। তখন আমরা সবাই বাবার লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। এখানে এসে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে বাবাকে দাফন করি।আজ আমার বাবা নেই। আমি বড্ড অসহায় হয়ে পড়েছি।কে দেখবে আমাদের পরিবারের সদস্যদের। আমরা কার কাছে যাবো। নিহত রমজান আলীর স্ত্রী নূরুন্নাহার জানান, বাড়িতে ঘর করতে গিয়ে আমরা অনেক টাকা ঋণ করে ফেলেছি। এখন আমি জানি না সেই ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবো।আর আমার পরিবারেই কিভাবে চালাবো।এরেই মধ্যে ঢাকায় জামায়াতের নেতারা ১ লাখ ও জুলাই বিপ্লবে শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে ৬ লাখ টাকা দিয়েছে।তা দিয়ে কোনো মতে কিছু ঋণ পরিশোধ করেছি এখনো আমাদের অনেক ঋণ রয়েছে। এখন এগুলো কিভাবে পরিশোধ করবো তা ভেবে কোনো কুল কিনারা পাচ্ছি না। এখন কে দেখবে আমাদের পরিবারের সদস্যদের কে ধরবে এখন আমাদের পরিবারের হাল। তখন তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন আমি আমার স্বামীর হত্যার জন্য শেখ হাসিনার বিচার চাই।খুনি শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় আমার স্বামী নিহত হয়েছেন।