1. admin@anantabangla.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
অনন্ত বাংলা শিরোনাম :
একাত্তরের চেতনা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের সংজ্ঞা চাটখিলে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাংচুর, লুটপাট ও গাছ কাটার অভিযোগ ভান্ডারিয়ায় রং মিশিয়ে মাছ বিক্রি, ভিডিও করায় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ চাটখিলে শত বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল, ভেঙে পড়ার শঙ্কা! মারা গেছেন এনসিপি নেত্রী রাফিয়া সুলতানা হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত: ধর্মমন্ত্রী সেবার মান উন্নয়নে চাটখিল স্কয়ার হসপিটালে আধুনিক অটোমেশন ল্যাব: রোগীদের স্বস্তি চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের জীবন সংকটাপন্ন অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: চাটখিলে দুই হাসপাতালকে অর্থদণ্ড চাটখিল সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনার ফুটপাতে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম, রয়েছে হরেক রকমের পিঠা 

সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১১৫ বার পঠিত
শীত এলেই হরেকরকম মুখরোচক পিঠার কথা মনে পড়ে যায়। তবে বাহারী নানা পিঠার মধ্যে শীতের জনপ্রিয় পিঠা ভাপা ও চিতই। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হিমেল হাওয়ার প্রভাবে বেড়ে যায় শীতের তীব্রতা। শীতের শুরুতে গোধুলী বেলায় হালকা কুয়াশা নেমে আসতে না আসতেই শহরের ফুটপাতে সব ধরনের পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করে দেন মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা। পাতলা কাপড়ে মুড়ে পাতিলের ওপর বসিয়ে আগুনের তাপে পানির বাষ্প উঠে তৈরি হয় ভাপা পিঠা।এ ছাড়া বিভিন্ন বাজারে, রাস্তার মোড়ে, পাকা রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান ঘুরতে দেখা যায়। মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় এই পিঠার চাহিদা বেশি থাকে। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত১২ পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি ও খাওয়ার পালা। কারণ শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় গরম গরম ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার যে স্বাদ সেটা অন্য কোনো সময় পাওয়া যায় না। আর শীতে যত রকমেরই পিঠা তৈরি হোক না কেন, ভাপা পিঠার ও চিতাই পিঠার সঙ্গে অন্য কোনো পিঠার তুলনাই হয় না।
এই পিঠা বিক্রি করেই শীতের সময় অনেকে সংসার চালান। পৌর  শহরের  বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে, ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসে পড়েছেন মৌসুমি পিঠা ব্যবসায়ীরা। অনেকেই মৌসুমী এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তেমন একটা পুঁজি লাগে না বলে সহজেই এ ব্যবসা শুরু করা যায়। তাই তো অনেকেই মৌসুমি ব্যবসা হিসেবে এটা বেছে নেন। এ ছাড়া এসব দোকানগুলোতে দেখা যায় পিঠা পাগল লোকজনদের উপচেপড়া ভিড়। বিক্রেতারাও আনন্দের সঙ্গে ভাপা পিঠা বিক্রি করে থাকে। পুরাতন কোট রোড, পশু হাসপাতালের সামনে, আনন্দ বাজার, ঢাকা বাসষ্টেন্ড, সাতপাই রেলক্রসিং বাজার,   বাসস্ট্যান্ড  ফুটপাতে এই পিঠার দোকান দেখা যায়। শীতের পিঠা বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন অনেকে। সরেজমিনে পিঠা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  এসব দোকান গুলোতে পিঠা বলতে পাওয়া যায়, শুধু ভাপা পিঠা ও চিতাই, ঝাল পিঠা, তেলের পিঠা, সাদা পিঠা।তাই মৌসুমি এই পিঠার প্রতি অনেকের বেশ আগ্রহও দেখা যায়। বছরের সাময়িক সময়ের এই পিঠার বাজার এখন থেকেই জমে উঠেছে। মূলত সকালে পিঠা বিক্রি হলেও বিশেষ করে বিকাল থেকে  এই পিঠার চাহিদা বেশি থাকে বলেও জানান বিক্রেতারা।
সাতপাই রেলক্রসিং কেডিসি রোড ছাতার নিচে প্রতিদিন পিঠা বিক্রি করেন নুর ইসলাম  ও তার স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে জীবনযুদ্ধে একাই সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। বছরের ছয় মাস পিঠা তৈরি ও ছয় মাস চা বিক্রি   করে চলে তার সংসার। তিনি আরো বলেন, আমি কয়েক বছর ধরে বছরের ছয় মাস পিঠা বিক্রি করে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ বহন করছি। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রয়েছে ক্রেতার ভিড়। প্রতিনিয়ত ক্রেতার ভিড় বেড়েই চলেছে। এতে আয় রোজগার ও হচ্ছে ভালো। এভাবে শীতের পিঠা বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন অনেকে। সাতপাই কেডিসি রোডের বাসিন্দা ক্রেতা আবির হাসান হিমেল বলেন, শীত মানেই পিঠা খাওয়ার ধুম। তবে সেই পিঠা যদি হয় চিতই পিঠা তাহলে তো কোনো কথাই নেই। নিজেকে রিফ্রেশ করার জন্য দিনের শেষে বন্ধুদের নিয়ে সন্ধ্যায় আসি  পিঠা খেতে। এতে করে সবার মাঝে ভালো লাগা কাজ করে। রেলক্রসিং বাজারের বাসিন্দা যুবদলনেতা স্বপন মিয়া  জানান, বাসায় সব রকমের ভর্তা বানানো সম্ভব হয় না। পিঠাবিক্রেতারা বিভিন্ন রকমের ভর্তা বানিয়ে থাকেন। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধু বান্ধব নিয়ে ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম বলেন ঐতিহ্যগতভাবেই শীতের কুয়াশা ভেজা সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠাপুলি বাঙালির অনন্য আয়োজন  খেজুরের গুড় ও চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা আর চালের গুঁড়া পানি দিয়ে বানানো হয় চিতই পিঠা, যা নেত্রকোনার এ জনপদে বেশ জনপ্রিয়। তাছাড়া শীতের পিঠা মনে এক চিলতে গ্রামে ফেরার আকুলতা তৈরি করে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যে এসব পিঠাপুলির বেঁচে থাকুক অনন্তকাল ধরে।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২৪ দৈনিক অনন্ত বাংলা
Theme Customized BY SHAKIL IT PARK