1. admin@anantabangla.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন
অনন্ত বাংলা শিরোনাম :
একাত্তরের চেতনা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের সংজ্ঞা চাটখিলে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাংচুর, লুটপাট ও গাছ কাটার অভিযোগ ভান্ডারিয়ায় রং মিশিয়ে মাছ বিক্রি, ভিডিও করায় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ চাটখিলে শত বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল, ভেঙে পড়ার শঙ্কা! মারা গেছেন এনসিপি নেত্রী রাফিয়া সুলতানা হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত: ধর্মমন্ত্রী সেবার মান উন্নয়নে চাটখিল স্কয়ার হসপিটালে আধুনিক অটোমেশন ল্যাব: রোগীদের স্বস্তি চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের জীবন সংকটাপন্ন অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: চাটখিলে দুই হাসপাতালকে অর্থদণ্ড চাটখিল সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

সীমান্ত এলাকা নেত্রকোনা এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য, অদৃশ্য কারণে নিরব কর্তৃপক্ষ

দৈনিক অনন্ত বাংলা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৮ বার পঠিত
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা :
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলা সীমান্ত এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য ঢুকছে এই সীমান্ত পথে।জানা যায়, (১লা নভেম্বর) জেলার দূর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর চৈতাটি ঘাট এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২শত পিচ কম্বল সহ এক যুবককে আটক করে। আরো জানা যায়, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় অন্ততম কয়েকটি চোরাচালান রোডে প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োজিত সোর্সের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় হচ্ছে।
এ যেন দেখার কেউ নেই। এক কথায় কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর সীমান্তের চোরাচালান রাজ্যের এক অদৃশ্য কারণে নিরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই দুই উপজেলার সীমান্তে নারী চোরাচালানকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এর থেকে বাদ পড়ছে না শিশুরাও।এদিকে বিজয়পুর, ভবানীপুর, বারমারী, সীমান্ত হয়ে উঠেছে চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় প্রত্যকটি সীমান্ত এলাকায় রয়েছে বিজিবি ক্যাম্প। তবুও সীমান্তে জুড়াবানের পানির মতো ভারতীয় পণ্য প্রবেশ করলেও দায় সারা ভূমিকায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো। অভিযোগ রয়েছে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকাজুড়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসকল পণ্য প্রবেশের পথে নির্দিষ্ট হারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ধারিত সোর্সম্যান বাহিনীর কাছে দিতে হয় চাঁদা। এছাড়া কোনো কোনো দিন মামলার জন্য সিষ্টেম লাইন দিয়ে চলছে চোরাচালান ব্যবসা। আর ইতোমধ্যেই চোরাচালান বাণিজ্য নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন চোরাকারবারীরা। যার জন্য প্রতিনিয়ত এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার স্থানীয় এলাকাবাসীরা। প্রতিদিন সীমান্ত এলাকায় মহড়া দিতে থাকে এই চোরাকারবারীর সদস্যরা। যার ফলে স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে জীবন-যাপন করছেন।
অপরদিকে কলমাকান্দা উপজেলার মধ্যে চোরাচালানের অন্যতম নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে-কলমাকান্দা থেকে পাঁচগাঁও রোড, লেংগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ী সীমান্তে কালাপানি রোড, খারনৈ হয়ে বড়দল রোড ও দুর্গাপুর থেকে বিজয়পুর রোড এবং দুর্গাপুর হয়ে পূর্বধলা দিয়ে শ্যামগঞ্জ রোড। অন্যান্য এলাকার তুলনায় এই দুই উপজেলায় সুযোগ সুবিধা ভালো। এই সব এলাকায় ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে বর্ডারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিনা বাঁধায় ঢুকতে পারে অনেক গাড়ি। নির্ধারিত টাকা সোর্সদের নিকট পরিশোধ করার পর পর। কয়েক মিনিটের মধ্যে সীমান্ত দিয়ে,‌ সীমান্ত ফাঁড়ির আশাপাশের অর্ধশতাধিক এলাকা দিয়ে অনায়সে আসছে চোরাই পণ্য। সুযোগ সুবিধা ভালো থাকায় এই দুই উপজেলার এই রোডগুলো দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ভারতীয় মটর সাইকেল, মোবাইল হ্যান্ড সেট, সুপারি, শাড়ি, গরু, মহিষ, কসমেটিকস, হরলিক্স, ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিভিন্ন ব্যান্ডের অফিসার চয়েস মদ, আমদানী নিষিদ্ধ ভারতীয় শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, সুপারি আর বাংলাদেশ হতে ভারতে পাচার হচ্ছে কম্বল জ্যাকেট, মটরশুটি, মটর ডাল।
নেত্রকোনার সীমান্তে বসাবাসরত সাধারণ নাগরিকরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োজিত সোর্সম্যানদের নেতৃত্বে তাদের সোর্সদের মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্ত বাসিন্ধারা আরও জানান, কিছু কিছু সময় অনেক চোরাকারবারী নিদিষ্ট সোর্সদের নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করলে ঐ চোরাকারবারীর নিয়ে আসা পণ্য আটক করে লোক দেখানো হয়। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলা দিতে চোরাকারবারীদের সাথে সিষ্টেম চুক্তি মাধ্যমে কিছু সংখ্যাক গরু-মহিষ এবং হাতে গুনা কয়েক বস্তা মটরশুটি এমনকি কসমেটিক আটক করে জনসাধারণের আইওয়াশ করছে বলে জানান তারা। এই দুই উপজেলার সীমান্তে বসবাসরত এলাকাবাসীরা আরও বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি গোলাটে হওয়ায় চোরাকারবারী চক্রের সদস্যদের নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোতে আগমন ঘটে। বিগত কয়েকমাস ধরে এই দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকা গুলোতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েই চলছে চোরাকারবারী। হঠাৎ করে গত কয়েক মাসে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্ত হয়ে উঠেছে চোরাকারবারী চক্রের স্বর্গরাজ্য।জানা যায়,গত কয়েক মাসে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়ে উঠছে হাতে গুনা কয়েকজন চোরাকারবারীর সদস্য।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর এই দুই উপজেলার সীমান্তে বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বশীলরা কখনো কখনো অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য আটক করলেও কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারা সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অপারগত প্রকাশ করেন। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নেত্রকোনা বিজিবি ক্যাম্পের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষদের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ও সচেতন মহল। কিন্তু গোপন সূত্রে জানা যায়, রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তের চোরাচালান চক্রের গডফাদাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্তে বসবাসরত এলাকাবাসীরা জানান, সীমান্ত এলাকায় ত্রাসের চোরাকারবারী রামরাজত্ব কায়েম করছে। তাদের রয়েছে অবৈধ সম্পত্তি। সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানকারীরা নেতৃত্ব দিয়ে চলছে, এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ চোরাকারবারীরা। এখানে সরকারি সংস্থার কোনো নজর নেই এদের উপর। তাদের এমন অবৈধ কাণ্ড দেখে অবাক এই দুই উপজেলাবাসী। চোরাচালান চক্রের গডফাদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী বলে মনে করছেন কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার সচেতন মহল।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২৪ দৈনিক অনন্ত বাংলা
Theme Customized BY SHAKIL IT PARK