
সারাদেশে চলমান চুরি,ছিনতাই,ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিপরীতে প্রশাসনের নিস্ক্রিয় ভূমিকার প্রতিবাদে নেত্রকোনায় মানববন্ধন করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ওই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেত্রকোনা জেলা কমিটির মূখ্যপাত্র সাবা সরকার তৌওশীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক অন্যান্য শেখ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক সাবাবা হক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গাফ্ফার সহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রকোনা জেলা কমিটির মূখ্যপাত্র সাবা সরকার তৌওশী তার বক্তব্যে বলেন, ৫ই আগষ্টের পর আমরা একটি নতুন সম্ভাবনার বাংলাদেশ পেয়েছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। এই অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যেখানে আমাদের সাম্য, নাগরিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মান করার কথা সেখানে ৫ই আগষ্টের পর আমরা দেখলাম প্রশাসনের গা-ছাড়া ভাব। বেড়েছে ধর্ষণ, চুরি ডাকাতি। তাই আমরা এরকম গা ছাড়া ভাব প্রশাসন চাই না।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গাফ্ফার বলেন, সারাদেশে চুরি, ছিনতাই, চাদাবাজি, ধর্ষণ এবং খুন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু প্রশাসন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে ব্যার্থ হচ্ছে। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ড জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ৫ই আগষ্ট পরবর্তী বাংলাদেশকে আমরা এইভাবে দেখতে চাই না অতিদ্রুত প্রশাসনকে কার্যকরী ভূমিকায় ফিরে আসতে হবে। অন্যথায় আমরা ছাত্র-জনতা আবারও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক অন্যান্য শেখ বলেন, অতিদ্রুত প্রশাসনকে ধর্ষণ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই ধর্ষণ হত্যাকাণ্ডের সাথে কমলমতি তরুণ কিশোররা কিভাবে কিশোর গ্যাং এ রূপান্তর হচ্ছে তার কারণ বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক সাবাবা হক বলেন, ‘সম্প্রতি সময় চুরি,ছিনতাই এবং ধর্ষন থেকে হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে। সারাদেশে লাশের মিছিল চলছে। বেড়েছে ভয়ানক হত্যাকান্ড। একজন ছাত্র তার ক্লাসের জন্য সকালে বের হয়ে তার ভার্সিটি পর্যন্ত যাবে এটাই খুব স্বাভাবিক। আর এই যাবার পথে তাকে ছিনতাই ও ধর্ষণের শিকার হতে হয় এবং ছুরির আঘাতে মৃত্যুবরণ করতে হয়। আমাদের প্রশাসন একটি মানুষের এতটুক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। পুলিশকে প্রতিটি শহরের মাদকের আস্তানা গুলোকে উৎখাত করতে হবে। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনাদের সক্রিয়তা এবং প্রতিটি হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার বদলে দেবে দেশের চিত্র।তাই আমি সারাদেশের শিক্ষার্থী-জনতার প্রতি আহবান জানাই, আসুন নিজেদের নিরাপত্তায় সংগঠিত থাকি। সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করি।