
জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজে হয়েছেন স্বাবলম্বী, সঙ্গে গড়ে তুলেছেন আরও অর্ধশত নারীর ভাগ্য। নেত্রকোনার আফরোজা আক্তার লিজা কুঁশিকাটা আর সুঁই-সুতার জাদুতে বদলে দিয়েছেন নিজের ও সমাজের চিত্র। নেত্রকোনা সদর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পঁচাশিপাড়ায় এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম লিজার। দুঃখ-সংগ্রামে ভরা জীবনে স্বামীর অবহেলা আর সংসারের নির্যাতনে একসময় আশ্রয় নেন বাবার বাড়িতে। কিন্তু হার মানেননি হাতে তুলে নেন সুঁই-সুতা। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পুঁজিতে শুরু হয় লিজার নতুন পথচলা। নিজের হাতে বানাতে থাকেন কুঁশিকাটা জামা-কাপড়। ধীরে ধীরে সেই শখের কাজই হয়ে ওঠে জীবনের আশ্রয়। প্রশিক্ষণ নেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বিসিক থেকে। এখন নিজেই গড়ে তুলেছেন ‘লিজা বুটিকস হাউজ’ যেখানে কাজ করছেন অর্ধশতাধিক নারী।
লিজা বলেন, ছোটবেলা থেকেই কুঁশিকাটার কাজ জানতাম। সেই কাজটাই আজ আমার শক্তি। এখন আমার সঙ্গে ৫০ জনেরও বেশি নারী কাজ করছেন। সবাই আয় করছেন, সংসার চালাচ্ছেন।অনেকেই বলেন লিজার হাত ধরেই বদলে গেছে অনেক নারীর জীবন। সংসারের অভাব ঘুচে এখন তারাও স্বপ্ন দেখছেন আরও বড় ভবিষ্যতের। লিজা আপার জন্য এখন মাসে ভালো আয় করি। পোলাপান নিয়্যা ভালো আছি। আগে এই সুখ ভাবতেও পারতাম না।
দেশীয় কুঁশিকাটার নকশায় তৈরি লিজার বুটিকসের পণ্য এখন ছুঁয়ে ফেলেছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমেরিকা, কানাডাসহ বিদেশি বাজারও।
এদিকে বিসিকের জেলা উপ ব্যবস্হাপক সুব্রত কুমার কর বলেন, লিজা আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি শুধু নিজে স্বাবলম্বী নন, বহু নারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি সংগ্রাম আর পরিশ্রমকে হাতিয়ার করে আফরোজা আক্তার লিজা এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। তার লক্ষ্য—একটি বড় শোরুম ও নিজস্ব কারখানা প্রতিষ্ঠা করা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে বদলে দিয়েছেন নিজের জীবন, বদলে দিচ্ছেন আরও অনেক নারীর ভাগ্যও।