1. admin@anantabangla.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
অনন্ত বাংলা শিরোনাম :
একাত্তরের চেতনা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের সংজ্ঞা চাটখিলে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাংচুর, লুটপাট ও গাছ কাটার অভিযোগ ভান্ডারিয়ায় রং মিশিয়ে মাছ বিক্রি, ভিডিও করায় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ চাটখিলে শত বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল, ভেঙে পড়ার শঙ্কা! মারা গেছেন এনসিপি নেত্রী রাফিয়া সুলতানা হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত: ধর্মমন্ত্রী সেবার মান উন্নয়নে চাটখিল স্কয়ার হসপিটালে আধুনিক অটোমেশন ল্যাব: রোগীদের স্বস্তি চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের জীবন সংকটাপন্ন অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: চাটখিলে দুই হাসপাতালকে অর্থদণ্ড চাটখিল সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

মাধ্যমিকের ছাত্র হয়েও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছেলে

দৈনিক অনন্ত বাংলা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭২ বার পঠিত
সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম মাশরুর শারার মুনতাছিন (১২)। সে বারহাট্টা উপজেলার সাহতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। গত বছর উপজেলার ময়মনসিংহ ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ওই বিদ্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে সাহতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে নিয়মিত ক্লাস করছে এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে ষষ্ঠ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেবে। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়েও মুনতাছিনকে এখনও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হচ্ছে এবং বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ানো হচ্ছে। গত ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার মডেল টেস্টে সে অংশ নেয় কদলদেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সেন্টারে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পরীক্ষা শেষ হয়। ওই সেন্টারের পরীক্ষার হাজিরা খাতায় তার নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত হল সুপার ও একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মামুন মিয়া।
এছাড়া, গত এক বছর ধরে ময়মনসিংহ ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তিও গ্রহণ করেছে মুনতাছিন। জানা গেছে, মুনতাছিনের বাবা মো. মাজু মিয়া বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের দত্তগ্রামের বাসিন্দা। ছেলেকে সাহতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করার পর তিনি বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক। স্থানীয় শিক্ষক সমাজের দাবি, একজন মাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো শুধু অনৈতিক নয়, এটি পরীক্ষার নিয়ম ও শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি অমান্যতার শামিল।
এবিষয়ে জানতে শিক্ষার্থী মুনতাছিনের বাবা মাজু মিয়ার মোবাইলে কল দেওয়া হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। সাহতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মজিবুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুনতাছিন বর্তমানে আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। তার রোল নম্বর-৪৪। সে গত বছর ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেছে। এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইলফোনে কল করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন সে আমার বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।
এদিকে কুমার পাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও হল সুপার মো. মামুন মিয়া বলেন, মুনতাছিন নামের ওই ছাত্র বৃত্তি পরীক্ষার মডেল টেস্টে অংশ নিয়েছে এটা সত্য। সে অন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে, আমাদের একজন শিক্ষক এসব ডকুমেন্টস বের করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছেন। আমিও বিষয়টা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জিয়াউর রহমান বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে এনে আবার প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ানো অনিয়ম। বিষয়টা শুনেছি, তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি অবহিত করলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২৪ দৈনিক অনন্ত বাংলা
Theme Customized BY SHAKIL IT PARK