
চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
রোজা আসলেই গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন বাড়িতে দেখা যায় বাঙালি মুসলিম জাতির ঐতিহ্য “রোজার খাওয়ানী”র মত কর্মসূচি। এ কর্মসূচি পালন করার উদ্দেশ্য ছিল মহান আল্লাহ তা”য়লার সন্তুষ্টি। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে এর কার্যক্রম প্রায় বিলুপ্তের পথে আগাচ্ছে।
গ্রামের মানুষরা বলছেন, “রোজার খাওয়ানী” মানে গ্রামের ঐহিত্য শুধু খাওয়া নয় বরং গ্রামের মানুষের সাথে মানুষের এক মিলনমেলা । এছাড়াও রমজানে রোজা রেখে কোমলমতি শিশুদের মাঝে থাকে নানা আনন্দ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় প্রতিবেশীদের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। নিয়মিত তাদের খোঁজ নিতেন। তাদের পাশে দাঁড়াতেন। মানুষকে প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিতেন।
প্রতিবেশীর জন্য খাবার সরবরাহ করা অন্যতম সুন্নত। আবু জর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে অসিয়ত করেছেন, যখন তুমি ঝোল (তরকারি) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দাও। এরপর তুমি তোমার প্রতিবেশীদের দিকে দৃষ্টি দাও এবং ওই খাদ্য থেকে তাদের জন্য সৌজন্যমূলক কিছু পৌঁছে দাও।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫২৬)
গ্রামের মানুষদের রোজার সময় এক বেলা খাওয়ার আয়োজন করা উত্তম। শ্রীনগর বাইতুস সালাম কওমী মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা শাকিল বলেন, রোজার সময় প্রতিবেশীদের খাওয়ানো বড় সওয়াবের কাজ। আগেকার দিনে বাড়ির সবাই মিলে রোজার খাওয়ানীর আয়োজন করতো তাতে করে আশপাশের বাড়ির লোকজনের সাথে দেখা স্বাক্ষাত হতো। এই রান্না কেবল আল্লাহ ওয়াস্তে হওয়ায় এতে স্বাদের পরিমাণ হত অকল্পনীয়। মানুষ রুহ বা অন্তর থেকে দোয়া করতো। আজ তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এমনও মানুষ আছে যারা একবেলা গোস্ত খেতে পায় না।
অন্যদিকে চাটখিল উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মহি উদ্দিন হাসান বলেন, রোজার খাওয়ানী সংস্কৃতিতে থাকলেও ইসলামে মূলত মাহে রমজানে রোজাদারকে ইফতার করার জন্য এই আয়োজন করা হয়। বর্তমানে এই আয়োজন করতে গিয়ে বেশিভাগ ধনী ব্যক্তিদের প্রধান্য দেওয়া হয় । সেখানে গরিব মানুষেরা ঠিকমত খাবারও পায়না। এজন্য উত্তম হলো পেকেটজাত করে গরিব মানুষদের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌছিয়ে দেওয়া।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান এ বিষয়ে জানান, মাহে রমজানে উপলক্ষ্যে মানুষকে খাওয়ালে সওয়াব ৭০ গুন বেশি হবে। এছাড়াও আল্লাহর ওয়াস্তে খাওয়া নামক যে আয়োজন প্রচলিত রয়েছে তাতে গ্রামের মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক বৃদ্ধি করে। তবে পেকেটজাত করে দেওয়াটাও অপছন্দনীয় নয়।