
সাদা ও বেগুনি রঙের পাপড়ি জড়ানো দৃষ্টিনন্দন একটি ফুলের নাম ঢোলকলমি। শরতের নীল আকাশপানে চেয়ে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া এ গাছটি শীত ও বর্ষাকাল পর্যন্ত দেখা যায় রাস্তার ধারে, জলাশয়ে, নদীর কিনারে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায়। পাঁচটি পাপড়ির মেলবন্ধনে ফুটে ওঠা এর ফুল আর ৮-১০ ফুট লম্বা ঢোল কলমি গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে। প্রকৃতির শোভা বর্ধনে মেঠোপথের ধারে, বাড়ির আঙিনায়, মাঠের ধারে এ নিষ্প্রভ ফুল গাছটি তেমন আর চোখে পড়ে না। শৈশবের খেলার সঙ্গী ঢোলকলমির ডালে গড়া খেলার ঘর আর কনে সাজানো ফুলের বাহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।
একসময় গ্রাম অঞ্চলে রাস্তার ধারে পাশে দেখা গেলেও এখন সেটি বিলুপ্তির পথে। এখনও নেত্রকোনার কিছুকিছু এলাকায় এই ঢোলকলমি গাছ দেখা যায়। তবে গ্রাম অঞ্চলে কয়েক দশক আগেও ঢোলকলমি গাছটি প্রায় দেখা যেতো। ঢোলকলমি সুন্দর ফুল দেওয়া ছাড়াও জমির ক্ষয়রোধ করে। এটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতা আছে বলে গ্রামাঞ্চলে এই গাছ বাড়ি বা জমিতে বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার কৃষক আঃ রউফ ফকির বলেন, গ্রামের ভাষায় এই গাছ আমাদের কাছে ঢোলকমলি গাছ হিসেবে পরিচিত। নদীর তীর ভাঙন রক্ষায় এটি ব্যবহার করতাম। আবার রান্নার জ্বালানি উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করতাম। তবে এখন আর খুব একটা দেখা যায় না।
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর এলাকার সুমন মিয়া বলেন, ঢোলকলমি একটি উপকারী গাছ। এ গাছ দিয়ে বেড়া তৈরি করা, রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সবচেয়ে বড় উপকার হয় মাটি ক্ষয়রোধের কাজে। বর্ষা কিংবা বন্যার মৌসুমে ঢোলকলমি গাছ নদীর তীর ভাঙন রক্ষায় উপকারে আসে। নেত্রকোনা জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঢোলকলমির গাছ নদীভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অল্পদিনে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয় জ্বালানির কাজে, ভূমিক্ষয় রোধ, ভাঙন রোধে ঢোলকলমি গাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এই উদ্ভিদকে সংরক্ষণের ও সম্প্রসারণের জন্য সকলের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক বেড়া হিসেবে পরিচিত, সুন্দর ফুলের সমারোহে ভরা এই ঢোলকলমি গাছ। প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় মূল্যবান এই উদ্ভিদকে সংরক্ষণের ও সম্প্রসারণের জন্য সকলের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।