
পিরজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ০৭ নং গৌরিপুর ইউনিয়ন এর মাটিভাংগা সওদাগর বাড়ির রাজিয়া বেগমের ৩ জন বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে।
মেয়েদের মধ্যে বড় মেয়ে লিখন (৩৫) বি এম কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন বিভিন্ন প্রতিকুলতার মাঝে। পরবর্তীতে চাকুরী হওয়ার কারনে তিনি ঢাকায় আসেন এবং এক রুম ভাড়া নিয়ে টঙ্গী গাজিবাাড়ী পুকুরপাড় এলাকার গোলাম মোস্তফার বাড়ীতে থাকা শুরু করেন। চাকুরী করতেন সমাজ কল্যানের অন্তর্গত টঙ্গীর শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে। ১৯ মে ২০২৫ তারিখে সকাল ৬টা এর মধ্যে নিজ কক্ষে দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হয়েছেন লিখন। ময়না তদন্তের পরে যারা লিখনকে গোসল করিয়েছেন তারা লিখনের শরিরের বিভিন্ন স্থানে অত্যাচারের চিহ্ন দেখেছেন। ৩টি কোপ, সারা গায়ে নির্মম আঘাতের, দুই গালে ও কপালে আঘাতের চিহ্ন।
স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকে লিখন কানে শুনত না, বোবা হওয়ায় কথা বলতে পারতেননা। সদাচরন, বিনয়ী, গুনি এক নারী এই লিখন। তার উদ্যম ও হার না মানা জীবনের গল্প যে কোনো মানুষের জন্য অনুপ্রেরনা যোগাবে। এই লিখনকে হত্যা করা হয়েছে তার নিজ কক্ষে। এ নিয়ে আজ্ঞাত আসামি করে টঙ্গী পূর্ব থানায় ২১শে মে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে তার মা রাজিয়া বেগম।
স্বজনরা জানিয়েছে যে, লিখনকে হত্যা করে হয়তো খুনিরা দ্রুত পালিয়ে গিয়েছে। এটা কোন প্রতিহিংসামূলক হত্যাও হতে পারে।
লিখন হয়ত কারো কুপ্রস্তাবে সারা দেয়নি অথবা কেউ হয়ত লিখনকে আগে থেকে বিরক্ত করত অথবা আশেপাশের কারো অতি গোপন কুকর্ম সে দেখে ফেলেছিল। খুনি আশেপাশের কেউ হবার সম্ভাবনা বেশি। পাশের কক্ষেও মানুষ ছিল। তারা নাকি এ বিষয় কিছুই জানেনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রকৃত কারন দ্রুত খুঁজে বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানিয়েছেন তারা।
লিখনের জন্য পুরো এলাকা মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া পড়েছে।