
দেশের অন্যান্য জেলার মতো পঞ্চগড়েও শুরু হচ্ছে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। টাইফয়েড প্রতিরোধে এ মাসব্যাপী ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৭৭ জন শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হবে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে এই কার্যক্রম চলবে মাসব্যাপী, মোট ২০ কার্যদিবস ধরে।
এর মধ্যে প্রথম ১২ কার্যদিবস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিকভাবে টিকা দেওয়া হবে। এরপরের ৮ কার্যদিবস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত শিশুদের টিকাদান চলবে কমিউনিটি পর্যায়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে টাইফয়েড রোগের জীবাণু ছড়ায়। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না হলে এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। তাই টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে টিকা সম্পর্কে সচেতন করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য।” সিভিল সার্জন আরও বলেন, “বর্তমানে টিকা নিয়ে নানা অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব ভুল ধারণা দূর করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সচেতন। আমরা চাই, গণমাধ্যমকর্মীরা এসব গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ান এবং সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিন।” প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জেলার ১ হাজার ৮৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৪৭ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১ হাজার ৬২টি কমিউনিটি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯২৭ জন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডা. সিফাত জাহান, জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সাফাত বিন শাহ, জেলা ইপিআই সুপারভাইজার হাসিবুর রহমান লাবুসহ জেলার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী।
ডা. সিরাজুল ইসলাম সকল অভিভাবককে নির্ধারিত সময় ও কেন্দ্রে শিশুদের টিকা প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই। টিকা না নিলে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।”
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই টিকা ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হবে। টিকা নিরাপদ, কার্যকর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত। প্রেস ব্রিফিং শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সিভিল সার্জন। সবাইকে টাইফয়েড প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।