
নেত্রকোনা পৌরসভার অলি গলি সহ জেলার গ্রামবাংলার রাস্তা গুলোর বেহাল দশা। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই নেত্রকোনা পৌরসভার অলি গলি সহ জেলার গ্রামবাংলার রাস্তা ঘাটের কোনো রাস্তা দিয়েই চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠে। জেলার সকল রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই হচ্ছে আওয়ামী সরকারের দ্বিগত ১৬ বছরের ফল।নেত্রকোনা পৌরসভার ভেতরে অলিগলিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পৌরসভার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এ সকল সড়ক দিয়ে যানবাহন গুলোকে চলতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। খানাখন্দের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই অকেজো হয়ে যায় গাড়ি। প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনাও ঘটছে সড়ক গুলিতে। এই অবস্থা হলেও দেখার যে কেউ নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পৌরশহরের অধিকাংশ সড়কজুড়ে খানাখন্দ। উঠে গেছে পিচঢালাই। কোথাও কোথাও সড়কের অবস্থা এমন হয়েছে- দেখে মনে হয় ধান রোপণের জন্য গরু দিয়ে খেতের জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। অনেক সড়কে একাধিক বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলে এসকল গর্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে পৌরশহরের মালনী পাটপট্টি সড়কের অবস্থা একেবারে বেহাল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত-শত সিএনজি চালিত অটোরিকশা এই সড়ক দিয়ে শহরের ভিতরে যাতায়াত করে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে চলাচল করার সময় যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই দ্রুত সংস্কারের দাবি সবার। করুণ অবস্থা নেত্রকোনা থেকে সাহতা বাজার পর্যন্ত সড়কের।গত বন্যার পূর্বে সড়কের অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলেও বন্যা পরবর্তী সময় থেকে ভোগান্তি চরমে পৌঁছে গেছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে মালামাল নিয়ে দূরপাল্লার অনেক ভারি যানবাহন চলাচল করে। যে কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কটি ব্যস্ত থাকে। সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে দেখা যায় এই সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। একবার এ সড়ক দিয়ে গেলে দ্বিতীয়বার আর যেতে ইচ্ছা হয় না। সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল খুব ধীরগতিতে চালাতে হয়। অধিকাংশ গর্তে পানি জমে থাকায় পায়ে চলাফেরা করাটাও মুশকিল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সড়কের খারাপ অবস্থা ব্যবসার উপরও প্রভাব ফেলছে। একই ভাবে সড়কের বেহাল দশা জেলার বিভিন্ন স্থানের।
আরো জানা যায় জেলার প্রতিটি গ্রামাঞ্চলের সড়কের অবস্থাও নাজুক। দেখা গেছে অনেকগুলো গর্ত। এগুলোর অনেক জায়গা ইট দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোও উঠে গেছে। এছাড়া এইসব সড়কে খানাখন্দের জায়গা দিয়ে গাড়ি ধীরে-ধীরে চলাচল না করলে উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। অনেক সময় গাড়ি উল্টে গিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। এই সড়ক গুলো দিয়ে যেতেও অনেক গুলো গর্তের মুখে পড়তে হয়। নেত্রকোনা শহরের রিকশাচালক রহিম বলেন, একবার শহরের অলিগলি সড়ক দিয়ে গেলে দ্বিতীয়বার আর যেতে ইচ্ছা হয় না। সিএনজি অটোরিকশা চালক বেলাল মিয়া বলেন, এই শহরের বেশিরভাগ সড়ক দিয়ে দিনের বেলাতেও অটোরিকশা খুব ধীরগতিতে চালাতে হয়, না হয় উল্টে যায়। সরেজমিনে আরো দেখা গেছে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। মাসের পর মাস মানুষ কষ্ট করছেন, দুর্ভোগে পড়ছেন।একেবারে অবহেলিত এই সড়ক গুলো বর্তমানে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। যেখানে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। নেত্রকোনা পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, ‘আমি নিজেও অসহায় সড়কগুলোর অবস্থা দেখে। কি করবো, বুঝে উঠতে পারছি না।