
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা :
নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের সতরশ্রী গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার আলা উদ্দিনের ছেলে শাহিন মিয়া দীর্ঘদিন যাবত জটিল রোগে আক্রান্ত। জীবনের সবচেয়ে রঙিন সময়ে যেখানে একজন মানুষ স্বপ্ন গড়ে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকে, সে সময়ে শাহিন মিয়ার (৩০) জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। তিনি জটিল এক রোগে আক্রান্ত। জানা যায়,তিনি তার চিকিৎসার খরচ চালাতে বাড়ি ভিটে বিক্রি করে এখন অন্যদের সহযোগিতায় চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছেন। বর্তমানে তার চিকিৎসার খরচের জন্য কোনো টাকা পয়সা নেই তার কাছে, এমতঅবস্থায় বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এখন মৃত্যু আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত হার মানছেন।এখন তার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চায় পরিবার।
এক সময় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন তিনি, জটিল রোগে আক্রান্ত শাহিন মিয়ার স্ত্রী সহ এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর আগে হঠাৎই দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরিবার প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা শুরু করালেও ধীরে ধীরে খরচ বাড়তে থাকে, যা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শাহিন মিয়ার বাবা আলা উদ্দিন বলেন, ‘ছেলের অসুস্থতা ধরা পড়ার পর প্রথমে এলাকায় চিকিৎসা করানো হয়েছিল। এরপর নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আমাদের যা ছিল সব শাহিন মিয়ার চিকিৎসায় ব্যয় করেছি। পরে গ্রামের মানুষ ও আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় চিকিৎসা চলছিল, কিন্তু সে সহায়তাও এখন বন্ধ হয়ে গেছে।এখন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে হয়তো তার এ অবস্থা হতো না।
শাহিন মিয়ার মা বলেন, ‘আমার ছেলে বাঁচতে চায়। সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে চলতে চায়। কিন্তু আমাদের পক্ষে তো চিকিৎসার খরচ বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষদের যদি পাশে পাই, তাহলে হয়তো আমার ছেলে আবার সুস্থ হবে। বর্তমানে শাহিন মিয়ার কোনো ধরনের উপার্জন না থাকায় সংসারেও দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন। পরিবারটি খুবই অর্থ সংকটে পড়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শাহিন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে তার রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন বড় অঙ্কের অর্থ, যা পরিবারের একার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় শাহিন মিয়ার পরিবার সমাজের হৃদয়বান,বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে।