
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালক পলাশ হালদারকে হত্যা করে লাশ সরিষাখেতে ফেলে রাখেন হত্যাকারীরা। পরে অটোরিকশাটি ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তারা। সোমবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ।
এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযানে ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানতে পেরেছে তারা। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অটোরিকশা চালক পলাশ হালদার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত ৪ আসামিকে। ছিনতাই হওয়া অটোরিক্সাটিও খন্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
এরআগে শনিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের নয়ানগর এলাকার একটি সরিষাখেতে পলাশের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পলাশের গলায় মাফলার পেঁচানো ছিল। পলাশ হালদার সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কালীনগরের শ্রী লাকফর হালদারের ছেলে।
পলাশ হালদারকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, কিলিং মিশনে অংশ নেয়া রাজশাহীর তানোর থানার কলমা গ্রামের একরামুল হকের ছেলে মোঃ রকি (৩২) ও রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার কাজলা গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জনি (২৪)। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হন ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার ক্রেতা তানোর থানার তালন্দ বাজারের মৃত ফয়জুদ্দিন মন্ডলের ছেলে মোঃ জুয়েল (৪০) ও নওগাঁর মান্দা থানার চৌবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ার আঃ রশিদের ছেলে সানোয়ার হোসেন(২৪)।
পলাশের স্বজনেরা জানান, গত ১২ ফেব্রয়ারি নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন পলাশ। ওইদিন থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি তার বাবা লাকফর হালদার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ১৫ই ফেব্রুয়ারি দুপুরে সরিষাখেতে একটি লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, লাশটি নিখোঁজ হওয়া পলাশ হালদারের। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পলাশ হালদারকে তারা হত্যা করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পলাশের অটোরিকশাটি ভাড়া করেন খুনিরা। আসামিরা ভিকটিম পলাশের পূর্বপরিচিত ছিল। প্রথমে পলাশকে বাংলা মদ খাইয়ে মাতাল করে। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সরিষাখেতের ভেতর ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যান। এরপর সেটি পৃথক দুটি ভাঙারির দোকানে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় রোববার রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিতে চান। আজ সোমবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে।