
চট্টগ্রামে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মেকানিক্যাল বিভাগের অধীনে সাগরিকা স্টক ইয়ার্ড এ দীর্ঘদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটে আসছে। পাঁচটি সংরক্ষিত গোডাউনে রয়েছে নতুন পুরাতন ব্রিজ ও ব্রিজের যন্ত্রাংশ। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রায় প্রতিদিনই রাতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র স্টক ইয়ার্ডের দেওয়াল অতিক্রম করে সংরক্ষিত গোডাউন ভেঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ব্রিজের নাট-বল্টু ও ছোট বড় মালামাল নিয়ে যাচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট এর পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পুরোপুরি সচল না থাকায় চক্রটি আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। প্রতিদিনই পিকআপে ভরে টনে টনে লোহা নিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতির কথা নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানালে তিনি দ্রুত মাস্টাররোলে ৬ জন লোক নিয়োগ দিয়ে সুপারভাইজার শাহ মুয়াবিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে ডিউটি করতে স্টক ইয়ার্ডে পাঠায়। বিষয়টি চক্রটির কানে গেলে তারা আনুমানিক রাত সাড়ে বারোটায় ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সুপারভাইজার মোয়াবিয়াসহ নিরাপত্তা কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে সুপারভাইজার মুয়াবিয়া কে পিঠে-রানে ও পায়ে ছুরির আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে এবং তার মোটরসাইকেলটিও ভেংঙ্গে ফেলে।
বিষয়টি পর্যবেক্ষন করলে জানা যায় নানা ধরনের তথ্য উঠে আসে। সড়ক ও জনপথের স্টক ইয়ার্ডের আশেপাশের ফ্যাক্টরি এপেক্স ফুড, সিমার্ক, বেক্সিমকো, সফি মটরসে স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী লিটন, মামুন, তুহিন ও রিফাতের তৈরি করা একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকে এইসব ফ্যাক্টরি থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদেরকে চাঁদা না দিলে ফ্যাক্টরিতে নানা কৌশলে ঘটে চুরির ঘটনা । সড়ক ও জনপথের কর্তৃপক্ষ তাদেরকে কোন চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিনিয়তই কিশোর গ্যাং দিয়ে এসব মালামাল লুট করে যাচ্ছে। স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রটি স্টক ইয়ার্ডের গিরিলের গেট কেটে ও দেয়াল ভেঙ্গে তিনটি গোডাউন পুরোপুরি ভাবে খালি করে ফেলেছে যেখানে কোটি কোটি টাকার ব্রিজের যন্ত্রাংশ ছিল। এক্ষেত্রে লিটন, মামুন, তুহিন, রিফাতকে ধরলে এসব সরকারী মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চক্রটি সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে এবং মসজিদে ঢুকে সিসি ক্যামেরার মনিটর, ডিভাইস ও যাবতীয় ডুকুমেন্ট নিয়ে গিয়েছে। এমনকি তারা স্টক ইয়ার্ডের কর্মচারীদের বাসা-বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে।
নাম না প্রকাশে অনিইচ্ছুক এক চা দোকানদার বলছে, প্রায়ই সময় স্টেক ইয়ার্ড এর আশ পাশে চক্রটি ঘূরাঘুরী করে এবং সময় সুযোগে সেখান থেকে মালামাল বের করে নিয়ে যায় কিন্তু এসব বিষয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিকারে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। সড়ক ও জনপথের অফিসারদের অবহেলা রয়েছে। এসব কর্মকান্ডের পেছনে অফিসারা জড়িত থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন।
এ ব্যাপারে সংরক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ্র দাস; একজন অবসর প্রাপ্ত ড্রাইবারকে দিয়ে মামলা কেন করেছেন তার সঠিক উত্তর দিতে না পারলেও সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন । ১ সপ্তাহের মধ্যে তিনি সাগরিকা স্টক ইয়ার্ডের সকল কাজ সম্পন্ন করবেন বলে নিশ্চিত করেন।