
নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভায় টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই হাজার ৭৪৫টি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার। তিনি এসব কার্ড কেন্দুয়া পৌরসভার কোষাধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিনের হাতে তুলে দেন। এই স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পৌর এলাকার বাসিন্দারা টিসিবি’র পণ্য সহজে ও ন্যায্যমূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। কার্ডধারী পরিবারগুলো প্রতি মাসে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, “টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য পাবে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে।”অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। টিসিবি’র এই কার্যক্রম পৌরবাসীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথম ধাপে কেন্দুয়া পৌরসভার ২ হাজার ৭৪৫টি পরিবারকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলায় জন্ম নিবন্ধন বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) মোজাফফরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে জন্ম নিবন্ধন বিষয়ে সচেতন করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও পরামর্শ প্রদান করেছেন। ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব এবং নবজাতকের জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তিনি অভিভাবকদের জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ বিষয়ে তিনি জনসাধারণকে সচেতন করেন এবং যথাসময়ে জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার আহবান জানান।
এছাড়াও, কেন্দুয়া পৌরসভা এবং উপজেলাধীন অন্যান্য ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ইউএনও ও তার সহযোগীরা। এ টিমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় হোম ভিজিটের মাধ্যমে অভিভাবকদের সাথে সরাসরি কথা বলে নিবন্ধন না হওয়া শিশুগুলোর জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করছেন। ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার জানান, জন্ম নিবন্ধন বিষয়ে এ ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পুরো উপজেলায় অব্যাহত থাকবে। তিনি এই উদ্যোগে সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এভাবে জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে শিশুরা সরকারের বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সক্ষম হবে এবং দেশের জনসংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।