মোঃ সাজিদ হুসাইন,যশোর জেলা প্রতিনিধি
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনে ল্যাগেজ বাণিজ্য শুন্যর কোটায় ফলে দুই দেশে যাত্রী সেবার মান দ্বিগুন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান কাস্টমস চেকপোষ্ট কাস্টম ইমিগ্রেশনে দক্ষ কর্মকর্তারা দায়িত্ব থাকার ফলে বহিঃর্গমন ও আন্তগমন পাসপোর্ট যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোঃ কামরুজ্জামানের নির্দেশে সু-দক্ষ কর্মকর্তারা অবৈধ পণ্যর উপর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তাবায়নের ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত পন্য আটক ব্যবস্থাপনা (ডিএম) করে মামলা দেওয়া দেওয়ার কারনে বৈধ যাত্রীরা হয়রানী মুক্ত ও ব্যাগেজরুল মানার কারনে সাধারন যাত্রীরা দীর্ঘ লাইন বাদে দ্রুত সময়ে নির্বিঘ্নে কাস্টমসের তল্লাশির কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করে বের হতে পারছেন।
বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল গনি ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে চোরাচালানি বন্ধ সহ সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও পাসপোর্ট যাত্রীদের ব্যাগেজ রুল অনুযায়ি কাংঙ্খিত সেবা দিতে সারিবদ্ধভাবে পাসপোর্ট যাত্রীদের স্কানিংয়ে ল্যাগেজ এবং যাত্রীদের হ্যান্ড মেটেল ডিটেক্টর দিয়ে শরীর তল্লাশি করা হচ্ছে। ভারত হতে আগত যাত্রীরা ব্যাগেজ রুল অনুযায়ি বেশি পণ্য আনলে তাদের পণ্য সরাসরি (আটক ব্যবস্থাপনা) ডিএম করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান এভাবে যাত্রীদের তল্লাশির ফলে লাগেজ পার্টির দৌরাত্ম্য কমেছে এবং রাজস্ব আয় দ্বিগুন হচ্ছে।
সরজমিনে বেনাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশন ঘুরে দেখা গেছে,ভারত হতে আগত যাত্রীদের ল্যাগেজ স্ক্যানিং চেক করার পর সন্দেহভাজন পুরুষ যাত্রীদের তল্লাশি এবং নারী যাত্রীদের আলাদা গোপন রুমে নিয়ে তল্লাশি করছেন। পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে আমদানি নিশিদ্ধ এবং অবৈধ পণ্য থাকলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তল্লাশি করছে যাতে কেউ গোপনে কোন ভাবেই অবৈধ পণ্য নিয়ে ভারত গমন এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমে কর্মরত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের সতর্কতার সাথে পাসপোর্ট যাত্রিদের হয়রানি ছাড়ায় যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোন চোরাচালানি পণ্য যাতে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে এবং ভারত থেকে কোন পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠা সাথে কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমে কর্মরত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, বৈধ ভ্রমনকৃত যাত্রীদের কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত ব্যাগেজ স্ক্যানারে চেক করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে কমিশনার স্যারের নির্দেশ মোতাবেক অবৈধ ল্যাগেজ পার্টি বা অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যাত্রীদের মালামাল আটক ও আটক ব্যবস্থাপনা আইনে (ডিএম) করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অসাধু ল্যাগেজ যাত্রী র পণ্য আটকের করনে বাহিরে গিয়ে নানান কথা ছড়াচ্ছে। আমরা আমাদের পূন্য দায়িত্ব পালন করছি।
যশোরের বাড়ি পাসপোর্ট (বি-০০১৫১৩৪৬) যাত্রী মিলন হোসেন নিকট ইমিগ্রেশন কাস্টমসে তল্লাশিতে কোন সমস্যা করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসারদের ব্যবহারে খুবই মুগ্ধ হয়েছি কোন রকম হয়রানি ছাড়ায় শুধু মাত্র ব্যাগেজ স্ক্যানিং করে সু-শৃঙ্খলভাবে কাস্টমসের কাজ শেষ করেছি। তিনি আরও জানান বাড়ির ব্যবহারের জন্য খাদ্যদ্রব্য সহ ইলেট্রনিক্স জিনিস কিনেছেন কিন্তু অফিসাররা চেক করে ছেড়ে দিয়েছেন।
ঢাকার পাসপোর্ট (এ-০৯০০৮০০৪) যাত্রী আনান্দ কুমার কাছে কাস্টমস ইমিগ্রেশন তল্লাশিতে কোন হয়রানি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ও আমার পরিবারের ২ জন মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে ডা: দেখাতে গিয়েছিলাম। ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত কাস্টমস অফিসাররা আমাদের সাথে থাকা পরিবারের জন্য ক্রয় কৃত মালামাল স্ক্যানিং করে ছেড়ে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল ইমিগ্রেশনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্যর রাজস্ব ফাঁকি দিতে বাংলাদেশ এবং ভারতের দুপাশে বড় ল্যাগেজ সিন্ডিকেট রয়েছে। কিন্তু বর্তমান জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগের ফলে ল্যাগেজ যাত্রী শুন্যের কোঠায় কোন নেমেছে। দ্বায়িত্বরত অফিসাররা নিজ নিজ দ্বায়িত্ব সচেষ্ট থাকার কারনে কোন রকম সুযোগ নিতে পারছেননা ল্যাগেজ ব্যবসায়ীরা। আর এই কারনে ল্যাগেজ ব্যবসায়ীদের দালাল সিন্ডিকেট সহ কিছু সুবিধাভোগী কার্ডধারী হলুদ সাংবাদিক চক্ররা কাস্টম কর্মকর্তাদের নামে অনলাইনে মনগড়া মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করছে।
বেনাপোল কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার শরিফুল হাসান জানান, বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনের নিরাপত্তা ও পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে ২৭টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে অবৈধভাবে পন্য পারাপার ও চোরাচালানের কোন সুযোগ নাই। আমদানি কারকদের অভিযোগ আছে ইমিগ্রেশন দিয়ে পণ্য প্রবেশ করলে তাদের লোকশান হয়। এজন্য ব্যাগেজ রুল ব্যতিত ভারত থেকে বেশি পণ্য নিয়ে আসলে তাদের পণ্য ডিএম করে সরকারের রাজস্ব আদায় কারার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন: +৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬ ,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.