প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২, ২০২৬, ৭:৩৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৯, ২০২৫, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনায় হাওরে মাছ লুটের সময় সংঘর্ষ; আটক-৫১

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীতে মাছ শিকারী ও স্থানীয়দের মাঝে শনিবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিত লোকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় শতাধিক গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থল থেকে ৫১ জনকে আটক করেছে বলে জানায় খালিয়াজুরী থানা পুলিশ। জানা যায় শনিবার (৮ মার্চ) সকালের দিকে উপজেলার রসূলপুর গ্রামের পাশে ধনু নদীর ফেরিঘাটে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরী ও মদন উপজেলার বিভিন্ন ইাজারাকৃত জলমহালের মাছ লুটপাট করার মহাৎসব চালিয়েছে এক শ্রেনির লোকজন। পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী প্রতিদিনিই ময়মনসিংহের নান্দাইন, গৌরিপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, নেত্রকোনা সদর, আটপাড়া, কেন্দুয়া, মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলার হাজার হাজার লোকজন সমাবেত হয়ে হাওরের ইজারাকৃত বিলের মাছ লুট করছে। এসময় আরো জানা যায়, গত এক সপ্তাহে মদন উপজেলার নূরেশ্বর বিল, খালিয়াজুরী উপজেলার কির্তনকলা বিল, কারি বিল, উচাবাইদা বিল, হাইলা বিলসহ বেশ কয়েকটি ইজারাকৃত বিলের মাছ লুট করেছে মাছ শিকারীরা। প্রশাসনের লোকজনের বাঁধা উপেক্ষা করেই প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটছে। যেসব বিলের মাছ লুট হয়েছে এগুলোর ইজারা মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা।
আরো জানা যায়, অন্যান্য দিনের মতো শনিবার সকালে খালিয়াজুরী উপজেলার ইজারাকৃত কাঠালজান ও মরাগাঙ্গের মাছ লুট করার জন্য ধনু নদীর পাড়ে জমায়েত হয় হাজারো লোকজন। পরে মাছ শিকারীরা রসূলপুর ফেরিঘাটের পাশে তাদের পরিবহনের শতাধিক পিকাপ ভ্যান, অটোরিকশা, সিএনজি,হেনট্রলি, মোটরসাইকেল রেখে ধনুী নদী পাড় হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ফেরিঘাটের লোকজনের সাথে মাছ শিকারীদের তর্কবির্তকের এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে স্থানীয় লোকজন অংশ নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত লোকজন আহত হয়। পরে বিক্ষুদ্ধ স্থানীয় লোকজন মাছ শিকারীদের পরিবহনের শতাধিক গাড়ি ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তখন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গাড়িতে দেওয়ার আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ শিকারীরা ফেরী দিয়ে ধনু নদী পাড় হওয়ার সময় তাদের গালমন্দ করে। তারা প্রতিবাদ করায় তাদের মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধলে হাজারো লোকজন রসূলপুর ফেরিঘাটের দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে রসূলপুর গ্রামে লোকজনের বসত বাড়িদে হামলা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। পরে বিক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা আগত মাছ শিকারীদের পরিবহনের শতাধিক গাড়ি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। মাছ শিকারী নজরুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পেয়ে মাছ ধরার জন্য ধনু নদীর পাড়ে যাই। সেখানে হাজার হাজার লোকজন ছিল। হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সবাইকে মারধর শুরু করে। তারা আমাদের গাড়ি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। উক্ত সংঘর্ষের বিষয়ে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার নয়ন ঘোষ জানান, শনিবার হাসপাতালে ১৫-২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা মাছ শিকার করতে গিয়ে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। সব রোগী এক সাথে আশায় অনেকের নাম পরিচয় সঠিক ভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরী হাসপাতালে ২০-৩০ জনের মতো চিকিৎসা নিয়েছে। খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের ঘটনা শোনার পর তাৎক্ষণিক‘আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে। উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় গাড়ি ভাংচুর ও আহত সর্ম্পকে আরো বিস্তারিত জানতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। তিনি আরো জানান, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে ৫১ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন
প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন:
+৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬
,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.