প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২, ২০২৬, ৬:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনায় বাকির ২০০ টাকা চাওয়ায় চা দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা

নেত্রকোনার পূর্বধলায় বাকি টাকা চাওয়ায় নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক চা দোকানিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মানিক মিয়ার (২৫) পলাতক রয়েছেন। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত চা দোকানি নজরুল ইসলাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোছাউড়া গ্রামের আক্কাস আলী ছেলে। তার ৭ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও আড়াই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। আর অভিযুক্ত মানিক মিয়া একই গ্রামের আব্দুল মালেক আকন্দের ছেলে। সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুফাতো ভাই।
নিহতের পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানিক প্রায় সময় নজরুলের দোকান থেকে বাকিতে চা খেতেন। কখনোই ঠিক মতো টাকা দিতেন না। বাকি চাইলে উলটো ক্ষেপে যেতেন মানিক। সর্বশেষ ২০০ টাকা দেড় বছর ধরে দিচ্ছিলেন না তিনি। গত বৃহস্পতিবার মানিক দোকানে গেলে পাওনা টাকার তাগাদা দেন নজরুল। এতে মানিকের সঙ্গে ঝগড়া হয় তার। পরদিন দুপুরে পাওনা টাকার তাগাদা দিতে মানিকের বাড়িতে যান নজরুল। তবে টাকা দেননি মানিক। কিন্তু ফিরে আসার সময় পথে নির্জন স্থানে নজরুলকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন মানিক। এতে নজরুলের মাথায় খুলি ফেটে গুরুতর জখম হয়। সেইসঙ্গে বাম হাত ভেঙে যায় নজরুলের। আশপাশের লোকজন নজরুলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান সেখানকার চিকিৎসক। পরে শনিবার বিকেলে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার দুপুরে নিজ গ্রামে নজরুলের লাশ দাফন করা হয়।
নজরুলের স্ত্রী রুপা আক্তার বলেন, নজরুল এক সময় মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী ছিলেন। স্ট্রোক করার কারণে তিন বছর আগে দেশে ফেরেন। জায়গা জমি না থাকায় সংসার নিয়ে বিপদে পড়েন তিনি। পরে বাড়ির সামনে একটি চা দোকান দেন। দোকানের আয় দিয়েই কোনোরকম সংসার চালাতেন। মানিক দোকান থেকে বাকি খেয়ে আর দিতেন না। প্রচণ্ড অর্থ কষ্টে থাকায় ২০০ টাকা নজরুলের কাছে অনেক ছিল। পাওয়া টাকা চাইতে মানিকের বাড়ি গিয়েছিলেন নজরুল। ফেরার পথে নির্জন জায়গায় লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নজরুলের মাথা ফাটিয়ে ফেলে। এতে মাথায় ভেতর রক্তক্ষরণ হয়। নজরুলের বাম হাতটাও ভেঙে ফেলে। এছাড়া চোখসহ সারা শরীরে অসংখ্য আঘাত করেছে। তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। রুপা আক্তার আরও বলেন, বাড়ির জায়গাটা ছাড়া আমাদের আর কিছু নেই। দুই সন্তান নিয়ে আমি কেমন করে চলব। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি। আমি হত্যাকারীর বিচার চাই। যে আমার সন্তানের এতিম করেছে। তাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিয়েছে। তার বিচার চাই। পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে অভিযুক্ত মানিক মিয়াকে গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন
প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন:
+৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬
,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.