প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২, ২০২৬, ৬:৪৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৫, ২:২৬ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনায় ফুলকপি ক্রেতাদের স্বস্তি হলেও কৃষকের লোকসান

নেত্রকোনা শহরের সুপার মার্কেটে ফুলকপি ২০-২৫ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও বিক্রেতারা বড় ধরনের লোকসানে পড়ছেন। আবহাওয়া খারাপ ও ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় ফুলকপি কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাইকারি বাজারেও দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা লোকসান গুনছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুপার মার্কেটের সামনে ফুটপাতে ফুলকপির স্তূপ রাখা হয়েছে। তবে দোকানগুলোর সামনে ক্রেতার আনাগোনা একেবারেই কম। সকালে ঘন কুয়াশার কারণে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের সংখ্যা নগণ্য ছিল। বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে সোমবার ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল।
সদর উপজেলার পরাণগঞ্জ থেকে আসা সবজি ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত বোররচর থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে ফুলকপি কিনে এনেছেন। পরিবহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচসহ ফুলকপির দাম প্রতি কেজি পড়ে ২৭ টাকার ওপর। কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা কম এবং আবহাওয়া খারাপ থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে ফুলকপি বিক্রি করছেন। এ কারণে তার প্রতি চালানে অন্তত ২০-৩০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। তিনি জানান, যদি দাম আরও কমে যায়, তাহলে কৃষকদের বড় লোকসান গুনতে হবে। ফুলকপির স্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিক্রেতা ও শ্রমিকরা জানান, ক্রেতা না থাকায় তারা তাদের সবজি বিক্রি করতে পারছেন না। আমদানি করা অর্ধেক ফুলকপি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফুলকপির স্তূপ যদি এভাবে পড়ে থাকে, তবে তা নষ্ট হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা করছেন তারা। দোকানে ফুলকপি ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও পাইকারি বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ১৫-২০ টাকা কেজি দরে।
শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, এত ফুলকপি একত্রে বাজারে দেখে অবাক হয়েছেন। তিনি জানান, বাজারে ফুলকপির আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমে এসেছে এবং এখন ফুলকপি সস্তা হয়ে গেছে। তিনি ফুলকপি দুই কেজি ৪০ টাকায় কিনেছেন। তবে তিনি আশঙ্কা করছেন, যদি দাম আরও কমে যায়, তাহলে ফুলকপি চাষিদের মাথায় হাত উঠবে। তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে কপি বিক্রি করে লোকসান গুনবেন। সুপার মার্কেটের ভেতরে কিছু ব্যবসায়ীকে ফুলকপি, শিম ও নতুন আলু বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। যেসব ক্রেতা ফুটপাতের দোকানগুলোতে যাচ্ছেন না, তারা এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সবজি কিনছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা জানান, কিছু ব্যবসায়ী এসব সবজি দেশি ও টাটকা বলে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে বেশি দামে সবজি বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে মোক্তার পাড়া সড়কের পাশে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অপরিকল্পিত কাঁচাবাজার জমে উঠছে। এ বাজারের পাশে আঞ্জুমান সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, দত্ত উচ্চবিদ্যালয়, নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কয়েকটি বেসরকারি কেজি স্কুল ও ক্লিনিক রয়েছে। এর কারণে যানজট নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসী চলাচলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক নজরদারি না থাকায় শাকসবজি ও ফলমূল অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। সুপার মার্কেটের ক্রেতা সজল তালুকদার জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা নিয়মিত হয় না। তিনি বলেন, ‘বাজার তদারকি সুষ্ঠুভাবে চলমান রাখতে হবে, যাতে সবজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে। যদি বাজার নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে এর প্রভাব পড়বে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের ওপর এবং শ্রমজীবী অসংখ্য মানুষের কষ্ট বাড়বে। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানান, বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে থাকেন। তিনি ক্রেতা ও সচেতন মহলকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন
প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন:
+৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬
,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.