প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২, ২০২৬, ৮:১৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৫, ২:০৮ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনায় ধুলোয় অতিষ্ঠ জনজীবন,স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ সহ শিক্ষার্থীরা

নেত্রকোনার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ইটভাটার যানবাহন চলাচলের কারণে অতিরিক্ত ধুলাবালি উড়ছে। এতে রাস্তায় চলাচলরত শিক্ষার্থী,যাত্রী ও পথচারীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। মুখে মাস্ক, রুমাল ব্যবহার করেও স্বস্তি পাচ্ছে না এই জেলার সাধারণ মানুষ।আখড়ার মোড় থেকে শুরু করে রাজুর বাজার পর্যন্ত এবং মাছুয়া বাজার থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত সড়কটি যেনো ধুলোর রাজ্য। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, যাত্রী,পথচারীরা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান কলেজ, প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব পড়ছে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও বালুবাহী ড্রামট্রাক ও ভারি যানবাহনগুলো চলাচলের কারণে পুরোসড়কে কুয়াশার মতো ধুলা উড়তে দেখা গেছে। এ দৃশ্য দেখে মনে হয় এ যেন কুয়াশাছন্ন শীতের সকাল।অতিরিক্ত ধুলার কারণে এসব রাস্তায় অটো, রিকশা, বাস, মোটরসাইকেল যাত্রীসহ পথচারীরা দুর্ভোগ শিকারের পাশাপাশি তারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। এবিষয়ে সিএনজি চালক আলামিন হোসেন বলেন, ‘ধুলোবালির কারণে রাস্তায় সামনের গাড়িগুলোও সহজে দেখা যায় না, এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
রাজুর বাজার রাস্তার এক পথচারি শামীম হোসেন বলেন, শহরের বিভিন্ন কাজে ও ইটভাটার যে সমস্ত মাটি ব্যবহার হচ্ছে তা সড়ক দিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঠিক তদারকি না করার কারণে রাস্তা ধুলাবালির এক স্তুপ হয়ে পড়েছে। নেত্রকোনা শহরের বেশ কয়েকজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্যসামগ্রী, খাবার ঢেকে রেখেও ধুলোবালি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না তারা। এতে খাবার ও বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। স্কুল ছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, ধুলা থেকে রক্ষা পেতে এখন (মাস্ক) ব্যবহার করেও স্বস্তি পাচ্ছি না। সাধারণ লোকদের অভিমত, শহরের পাশে সংশ্লিষ্ট ইটভাটা ও কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়ে নজর দিতেন, তাহলে অতিরিক্ত ধুলাবালি থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যেত।চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধুলোবালিতে বিভিন্ন রোগের জীবাণু থাকে। কমবয়সী ও বেশি বয়সী লোকজনের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ধুলোবালি মানব শরীরের ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। সব সময় ধুলোবালি বেষ্টিত পরিবেশে থাকলে ফুসফুসে রক্তপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে। সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি, টনসিল প্রদাহ, গলাব্যথা, অ্যাজমা বিভিন্ন রোগ হতে পারে। তারা আরো বলেন, ধুলোবালি থেকে যদি মানুষ রক্ষা পেতো, তাহলে মানুষের আয়ু আরো অনেক বছর বৃদ্ধি পেতো।
আরো জানা যায় রাস্তাতে অতিরিক্ত ধুলা বালির জন্য সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ভয়াবহ বায়ু দূষণের কবলে নেত্রকোনাবাসী। এ বায়ু দূষণের কারণ হলো ভয়াবহ ধূলার উপস্থিতি। এতে নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার বাসিন্দারা। দূষণে শহরবাসী অতিষ্ঠ হলেও প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। এ বায়ু দূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণের আশঙ্কা রয়েছে। ধূলা দূষণে নেত্রকোনা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, মহাসড়ক থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক ও পাড়া মহল্লার অলিগলি সব রাস্তাতেই অতিরিক্ত ধুলা বালির জন্য সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ইউরিয়া, প্যারাবিন, থ্যালেট, পেট্রোলিয়াম বাই প্রডাক্টস ও প্রোপাইলিন গাইকল পানির সঙ্গে মিশে না। এগুলো ধুলার সঙ্গে বাতাসে উড়তে থাকে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে গিয়ে ধীরে ধীরে ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে এছাড়াও ধুলা দূষণের ফলে শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা, হাঁপানি, চোখের নানা ধরনের রোগ, ব্রঙ্কাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে মানুষ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। চিকিৎসকদের মতে বায়ুতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, সীসা, তামা, ক্যাডমিয়াম, নিকেল, ধূলিকণা ইত্যাদি থাকে। প্রত্যেকটি উপাদানের একটি সহনীয় মাত্রা রয়েছে। কোন উপাদান এই মাত্রার বেশি বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম থাকলে আমরা তাকে বালি/ধূলা/বায়ু দূষণ বলে থাকি।
এদিকে অবকাঠামো তৈরির সময় নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার উপর বা রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় রাখা হচ্ছে। এসব জিনিসপত্র থেকে ধূলা দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে অধিকাংশ এলাকায় । ভাঙাচোরা রাস্তা দীর্ঘদিন মেরামত করা হচ্ছেনা। এসব ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রচুর ধূলা উৎপন্ন হচ্ছে। বাতাস বা যানবাহনের গতিতে এসব ধূলা সব সময় বাতাসকে দূষিত করে রাখছে। ঘর থেকে বের হলেই পথচারীদের জামাকাপড় নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে নেত্রকোনা শহরের স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ধুলা ময়লার কারণে তারা ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারছেন না। দোকানের মালামাল ধুলার ময়লার কারণে নোংরা হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জামা কাপর নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাভাবিক কারণে প্রতিদিন রাস্তায় কিছু ধুলা জমে। এ ধুলা ঠিকমতো অপসারণ না করার ফলে ধুলা জমতে থাকে। জমে যাওয়া এ ধুলা চলন্ত যানবাহনের গতিতে বাতাসে মিশছে এবং ধুলা দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও দালান-কোঠা বা অন্য কোনো অবকাঠামো তৈরির সময় নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার ওপর বা রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় রাখা হচ্ছে, যা থেকে ধুলা দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের এক জরিপে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে নেত্রকোনায় ধুলা দূষণ সবচেয়ে বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেলো শুষ্ক মৌসুমে নেত্রকোনায় ধুলা দূষণের মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৩৯৯ মাইক্রোগ্রাম। অথচ দূষণের সহনীয় মাত্রা হলো প্রতি ঘনমিটারে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন
প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন:
+৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬
,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.