-------------জীবনের শেষ ঠিকানা---------------------
---------------সোহেল খান দূর্জয়------------------------
হে আমার প্রিয় তুমি কি জানো সত্যিই তো আমি
চলে যাবো একদিন আমি আমার ছোট্ট ঘরটিতে
রইবোনা তোমাদের মাঝে হয়তো ভুলে যাবে সেদিন
এই যে পায়ের চিহ্ন মুছে যাবে রবে শুধু স্মৃতি টুকো
তবুও আমি রইবো বেঁচে তোমাদের হৃদয়ের মাঝে
সত্যিই তো বন্ধ হবে এ চোখ দুটি থেকে যাবে কলম
এ কবিতা পারবোনা আর লিখতে তবুও মনে রেখো
এই চোখ ভরা অশ্রু ভাসবে লেখা গুলো উড়ে যাবে
সত্যিই তুমি অশ্রু শিক্ত হৃদয়ে মনে রেখো আমায়
কে বলবে যে আমি নেই আমিতো আছি সবখানে
আছি বইয়ের পাতায় থাকবো তোমাদের এই হৃদয়ে
সত্যিই চলে গেলেও আমি থাকবো এই দেশেতেই
আমি মাটিতে মিশে গেলেও তোমাদের মাঝেই হবে
আমার এই ছোট্ট জীবনে পরিমার্জিত শেষ ঠিকানা।
সত্যিই পাখির মতোই যে আমি উড়ছি এতোটা কাল
তখন কেও দিয়েছে একটু প্রেম কেও দিয়েছে কথা
এদিকে কেও দিয়েছে পাহাড় সমান বুক বড়া বেতা
আমি তো জানি আবার কেও দিয়েছে এক সান্ত্বনা
আমি আমার আমাকে বুঝিনা বুঝি অন্য একজনা
কি আছে যে আমার বলতে পারো আমি পারছিনা
রাতের আকাশে যখন দেখি চাঁদ মনে হয় পৃথিবীটা
এক ছোট্ট আলোর বাতি ধারায় যে হয় আলোকিত
আমি জানি অথচ বিশাল পৃথিবী তার নিয়মেই চলে
রাত শেষে যখনই সকাল হয় পত্রিকার পাতা খুলে
দেখি হাজার অভিযোগ মৃত্যুর খবর তো আছেই
আমার কখনো কখনো মনে হয় এই ছোট্ট জীবনে
মৃত্যুর কি সম্পর্ক যেটা চলে গেলেই পুরো পৃথিবীটা
স্তব্ধ তার মানে কি আমার মৃত্যু আমার জীবনের
পরিমার্জিত হয়েছে আলোর এই যে শেষ ঠিকানা
যার সাদা কাপড়ের পোশাকেই হলো শেষ পোশাক
কারণে অকারণে আর হাসব না কবিতা লেখবে না
অভিমান প্রিয়ার অপেক্ষাও আর করবে না মাটির
বুকে যার হবে ছোট্ট একটা ঘর সে নিজেও জানেনা
কতো হাজার বছর কাটাতে হবে এ আলোহীন ঘরে
তবে কি আমার মৃত্যু আমার জীনের শেষ ঠিকানা,
সত্যিই তো যদি আমি যাই কখনো হঠাৎ করে মরে
তুমি এই স্মৃতি গুলো রাখিও আমার যত্নেতে মোরে
আমার মৃত্যুর সংবাদ শুনে কেউ করিও না কান্না
লাশের পাশে বসে ভাবিয়া কি লাভ বাড়িয়ে মায়া
জীবন নাট্যে কতো মানুষ হেসেছে আমায় যে দেখে
বলো তবে কেন বিদায় দিবে চোখের পানি ফেলে
মরে গেলেই এই চোখেতে দেখবো না আর এই হাঁসি
জানি তো অন্ধকারে থাকবো শুয়ে সবাই যাবে ভুলে
এই ছোট্ট আবদার দিলাম ছুড়ে পারলে কেউ রাখিও
দুটো ফুলে চারা আমার কবরে তুমি রোপণ করিও
মান অভিমান ভুলে গিয়ে দুমুঠো মাটি দিও কবরে
আমার এই নিরবতায় শেষ ঠিকানা যেতে হবে চলে
তুমি সময় পেলে দাঁড়িয়ে দেখিও আমার এই কবর
তোমার হৃদয়েতে মোরে রাখিও স্মৃতি গুলো মোর।
এই তো ব্যস্ত শহরে ভেসে আসা বিলাপ ধ্বনির সুরে
কে যেন বহমান এ কফিনে হাজারো জনতার ভিড়ে
আমি জানি এই সুন্দর সূর্য ডুবে যায় শেষ দিগন্তে
তখন এ ছেলেটি কাঁদিয়ে ফিরে যায় সবার অজান্তে
অবশেষে সব কিছু হারিয়ে খুঁজে পেলো এক ঘাঁটি
আমি জানি সে যেনো নিছক সাড়ে তিন হাত মাটি
আগেই যদি বুঝতে তুমি হে আমার প্রিয় এই বালক
তখন তুমি কাটাতে না জীবন তোমার সোনায় নলক
সত্যিই তুমি রূপের মায়ায় কাটালো এ জীবন বেলা
বিনিময়ে ফেলো তুমি এই যে শূন্য হাতের অবহেলা
আমি তো সুখের আশায় বানিয়েছি ফুলের বাগান
ফুলের সুবাসে ভাসে তাহার এই যে মৃত্যুর জয়গান
সত্যিই তো আশায় ছিলো এই ফুলের মধুর অহরণে
কাটায় বিদ্ধ জীবন তোমার শায়িত এই যে মরণে
ছলনার ভিড়ে ছিলো যতো তোমারি এই আপনজন
জানো তারাই সেই বাগানের মধু করে যে আহোরণ
সত্যিই শূন্য ভুবনে শূন্য মরণে শূন্য এই হাতে তুমি
অবশেষে ফেলে কি আর একটু খানি এই যে জমি।