
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে তিন দিন ধরে চলা উত্তেজনা কমেছে। ভারত সীমান্তে দেশটির সীমান্তরক্ষা বাহিনীর কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সীমান্তের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখন বিএসএফ বেড়া নির্মাণ বন্ধ করার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে বিজিবির আহ্বানে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ব্যাটালিয়েন অধিনায়ক ও বিকেলে সেক্টর কর্মান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। বর্তমানে ভারতীয় অংশে বিএসএফের সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বন্ধ রেখেছেন। সর্বশেষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
কয়েকমাস আগে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি জায়গায় কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ। সেই রাস্তা ঘেঁষে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই রোববার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ১১৯-বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সুবদেলপুর এলাকায় স্থানীয় বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনার জন্য খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন। সেদিনই বিজিবির পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর কোনো কাজ করেনি তারা।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ফের শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ শুরু করে বিএসএফ সদস্যরা। বিজিবির পক্ষের বাধা কর্ণপাত না করায় সেদিনই বিকেলে বিষয়টি মীমাংসায় পতাকা বৈঠক হয়। তবে কোনো সমাধান হয়নি। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বিএসএফের পক্ষ থেকে আবাবো কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ শুরু করলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সীমান্তের দুই পাশে দুই দেশের স্থানীয় মানুষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। এ সময় সতর্ক অবস্থান নেয় বিজিবি।
চৌকা সীমান্তের কাছে জড়ো হয়ে দুই দেশের নাগরিকদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে সীমান্তজুড়ে উত্তাপ ছড়ায়। ফলে গত দুই দিন সীমান্তের কাছের আবাদি জমিতে কৃষকরা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। তবে বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে চৌকা সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কয়েকজন কৃষককে মাঠে কাজ করতে দেখা যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘‘দুই বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। রাস্তা বা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে বিএসএফ।’’
সীমান্তের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। স্থানীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন: +৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬ ,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.