প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২, ২০২৬, ৮:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৫, ২০২৫, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
চট্রগ্রাম কাস্টমস রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে : আগের তুলনায় বিগত ৬ মাসে।

চট্রগ্রাম কাস্টমস রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে আগের তুলনায় বিগত ৬মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি, সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টমস চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছে ৫ হাজার ৬২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৫ হাজার ৯০৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ৪১ হাজার ৫২৪ কোটি ৮৬ হাজার টাকা।
সর্বশেষ ক্যালেন্ডার বছরের (২০২৪ সালের) শেষ দিনেও লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক রাজস্ব আহরণ করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। এদিন ৩৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ১২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
ডিসেম্বর মাসেও লক্ষ্যের চেয়ে ৮৯২ কোটি ৩৯ হাজার টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমসে। তবে আশার কথা হলো গত অর্থবছরের (২০২৩-২৪) প্রথম ৬ মাসের তুলনায় এ বছরের প্রথম ৬ মাসে দুই হাজার ৩৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে দেশের বড় রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানটি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার তৎপরতা বাড়ানোর কারণে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি কমেছে। আবার খালাসেও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নিতে পারেনি সুযোগসন্ধানীরা। ফলে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেশ কয়েকদিন পণ্য শুল্কায়ন থেকে খালাস প্রক্রিয়া পুরোদমে ব্যাহত হয়। যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। তাছাড়া উচ্চ শুল্কের পণ্য বিশেষ করে বিলাসী পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয় কম হয়েছে। যে কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, বাজারে ডলারের দাম বাড়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারেননি। যারা এলসি খুলেছেন তাদের অনেককে খোলা মার্কেট থেকে বেশি দামে ডলার কিনে ব্যাংকে শতভাগ মার্জিন দেখিয়ে ঋণপত্র খুলতে হয়েছে। ফলে সামগ্রিক নেতিবাচক একটি প্রভাব পড়েছে আমদানিতে। তাছাড়া গত দুই-তিন মাস ধরে উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি কমে গেছে। কিছু কিছু পণ্যের শুল্ককর প্রত্যাহারের কারণে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। আবার ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর রাজস্ব আদায়ও বাড়ে। তবে বেশিরভাগ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া যায় না। এবার লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা সহনীয় ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উচ্চ শুল্কে পণ্য আমদানি কমে যাওয়ার কারণে এই অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারিনি। তবে আমাদের টার্গেট থাকবে অর্থবছরের বাকি ৬ মাসে রাজস্ব আদায়ে ধারা ইতিবাচক হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন
প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন:
+৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬
,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.