প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২, ২০২৬, ৭:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৫, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য মাঠের ক্ষেতে আইলে বসে কৃষকের খাওয়া দাওয়া

নেত্রকোনার আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য মাঠের ক্ষেতে বা আইলে বসে কৃষকের খাবার-দাবার। ফসলের মাঠে কাজের ফাঁকে সকালে নাস্তা আর দুপুরের খাবার সারেন তারা। এই প্রথা নেত্রকোনায় চলে আসছে আদিকাল থেকেই। ভোর বা সকালে কৃষক ও শ্রমিক চলে যান মাঠে ক্ষেতের কাজে। প্রায় সময় দেখা যায় কাঁধে থাকে লাঙ্গল-জোয়াল,মই, এই আধুনিকতার যুগেও অনেক কৃষক গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। নেত্রকোনার গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় কারো হাতে কাস্তে বা হাসুয়া। কেউবা কোদাল হাতে মাঠে চলে যায় খুব ভোরে। রোদ, ঝড়-বৃষ্টিতে একমনে কাজ করেন তারা। সকালে বাড়ি ছাড়েন বলে নাস্তা ও দুপুরের খাবারটি মাঠে সারেন তারা।
নেত্রকোনার গ্রামাঞ্চলে আরো দেখা যায় কৃষাণ বধূরা গামছায় বেঁধে নাস্তা নেন। কোনো সময় দুপুরে খাবার পোটলায় বেঁধে প্রিয় মানুষটির জন্য নিয়ে যান। সঙ্গে থাকে বাসি তরকারি, ভর্তা, কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ। তরকারি বাসি কিংবা টাটকা এবং পদ যাই থাক পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ থাকতেই হবে কৃষকের পাতে। কর্মজীবী মানুষটি অপেক্ষায় থাকেন খাবারের। অবশেষে আসে সেই মহেদ্রক্ষণ। কাজের ফাঁকে মাঠের ক্ষেতে বা আইলে কিংবা উঁচু জায়গায় বসে খাবার খান। খাওয়া-দাওয়া শেষে কৃষাণী বধূ কিংবা ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা বাড়ির পানে ফিরেন।
গোটা নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলায় এই প্রথা চলে আসছে আদিকাল থেকে। জেলার প্রতিটি গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা যখন মাঠে কাজ করেন ছেলে মেয়েরা কিংবা বধূরা তাদের জন্য যখন খাবার নিয়ে যান তখন সাথে জগে করে কিংবা বোতলে করে তাদের জন্য খাওয়ার পানি ও নিয়ে যান তারা। আদিকালের এই ঐতিহ্য এখনো গ্রাম বাংলার কৃষকরা ধরে রেখেছে। মাঠে কাজ করা শ্রমিক জয়নালের (৪৫) সঙ্গে কথা হলে জয়নাল বলেন, আমি অন্যের জমিতে কাজ করছি। আসার সময় সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার আনার জন্য আমার স্ত্রী হাজেরাকে বলেছি। আমার একটি সাত বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। আমার বউ খাবার নিয়ে এলে পরিবারের সবাই মিলে মাঠের ক্ষেতে বা আইলে বসে খাবার খেয়ে নেবো। এর মধ্যে অন্যরকম মজাই আছে যা কাউকে বোঝানো যাবে না।
এদিকে খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আঃ রব স্বাধীন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে লাঙ্গল-জোয়াল কিছুটা কমেছে। তবে পাথারে কৃষক ও শ্রমিকদের সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার রেওয়াজ চালু রয়েছে। সেসঙ্গে এই জনপদে প্যালকা ও সিঁদুল খাওয়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। আর এই ফসলের মাঠে বসে খাওয়ার মজাই আলাদা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, নেত্রকোনা জেলার গ্রামীণ ঐতিহ্য হচ্ছে মাঠে-ঘাটে কৃষক ও শ্রমিকের খাবার-দাবার। এই প্রথা এখনও চালু রয়েছে। তবে অনেক প্রচলিত শব্দ হারিয়ে যাচ্ছে। এসব ভাষা সংরক্ষণের জন্য ও এলাকার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন বই প্রকাশ হয়েছে। নতুন প্রজন্ম এই বই গুলো পড়লে অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন
প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন:
+৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬
,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.