
একদল মানুষ আল্লাহর রাস্তায় দ্বীনের মেহনত করতে করতে এখানে একত্র হবে, আরেক দল মেহনত করার জন্য আল্লাহর রাস্তায় ইজতেমা থেকে বের হবে। ইজতেমার আসল মাকসাদ খুরুজ ফি সাবিলিল্লাহ তথা আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফরকে সামনে রেখে সাহাবাদের ইজতেমা করেছেন। কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা সকল বনি আদমের ইজতেমা করে শেষ ফায়সালা করবেন। তার দ্বীনের জন্য জান মাল সময় ব্যয় করে ক্ষমা ও পুরস্কারের আশায় আজকের এই ইজতেমা। সেই ইজতেমার প্রস্তুতি মূলত আমাদের ইজতেমা। যেন সেদিন আল্লাহ এর উসিলায় আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিবেন।
ইজতেমার আগের মেহনত, ইজতেমার জান। ইজতেমার পরের মেহনত ইজতেমার শান। হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী রহ. বলতেন, "হামারা জমা হোনা হি বিখার নে কে লিয়ে" আমাদের একত্র হওয়া ছড়িয়ে পরার জন্য।
হযরতজী মাওলানা ইউসুফ কান্ধলভী রহ বলতেন, " যেই মজমা দাওয়াতের নিসবতে জমা হওয়ার পরও আল্লাহর রাস্তায় বের হয় না তারা তোমাদের কথা গ্রহন করে নি"। তাই ইজতেমাকে পুরাতন সাথীদের কাজ উঠানোর উপায় হিসাবে গ্রহণ করো।
দাওয়াতের কাজ মূলত একটি ঈমানী আন্দোলন। ইসলামি বিপ্লব ও খেলাফত আলা মিনহাজিহিন নবুওয়তের পূর্ব প্রস্তুতি। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করার নববী মেহনত। দাওয়াত দিয়ে এই উম্মতের মেহনত শুরু আর জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ দিয়ে শেষ। আল্লাহর রাস্তায় ঈমানী মেহনত করতে করতে নিজের জান মালকে অকাতরে বিলিয়ে দিতে একদল ঈমানদীপ্ত মর্দে মুমিন তৈরি করা এই মেহনতের মূল মাকসাদ।
হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ বলতেন, আমি যদি এই মেহনতের নাম রাখতাম, তাহলে নাম দিতাম 'তাহরীকে ঈমান'। বিশ্বব্যাপী এক নিরব ঈমানী বিপ্লব। একটি ঈমানী চেতনার জাগরণ। উম্মাহর বির্নিমানে এক বিপ্লবী ইশতেহার। কেবল দূর থেকে কিংবা বছরে একবার বিশ্ব ইজতেমায় হাজিরা দিয়ে, আলেম কিংবা আওয়াম! কারো পক্ষেই এই আন্দোলনের হাকীকত, মেজাজ, তরতিব ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য বুঝা কখনে সম্ভব নয়। এটি একটি পরিকল্পিত, পরিপাটি, গোছানো তাহরীক। এর গভীরতা অনেক। ব্যাপকতা; দৃষ্টি সীমার বাহিরে। এই ঈমানী আন্দোলন ও ছয় সিফাতের বিপ্লবী কাজ সম্পর্কে বুঝতে হলে এই ময়দানে জান, মাল, সময়ের বাজি লাগিয়ে, কুরবানী করতে করতে ইজতেমায় শরীক হতে হবে।
এই কাজের বাসিরত অর্জন করে তাবলীগকে বুঝতে হবে। তখন ইজতেমা কী? কেন? এখানে কী করা হয়, কী চাওয়া হয়! এগুলো সামনে আসবে। তখন একজন আলেমের জন্যও আল্লাহর রাস্তায় ১ম সাল, ২সাল, ৩য় সাল লাগানো সহজ। জানমালের কুরবানীর উপর নিজে উঠা উম্মতকে উঠানো সম্ভব।
হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ঈমানের মেহনত এবং দ্বীনি দাওয়াতের যে জাযবা ও হিম্মত এবং উদ্যম ও মনোবল মানুষের মাঝে সঞ্চার করেছেন তা এক কথায় বিস্ময়কর। কবির ভাষায়- 'এক জাহান বদলে দিতেন এক মরদে খোদা'।
এবছরের ইজতেমা আবার প্রেমময় এক সৌভাগ্য রজনী শবে বরাতের রাতে। এমন বরকতময় রাতে তাবলীগের ইতিহাসের প্রথম ইজতেমা। আগামী ১৪, ১৫, ১৬ ফেব্রুয়ারী টঙ্গী তুরাগ তীরে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমার ময়দানে আজ থেকেই লাখ লাখ মানুষ প্রবেশ করছেন। বরকতময় শবে বরাতের রাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় জামায়েত হবে রহমতের ছামিয়ানার নিচে৷ নিজেদের ভুলক্রটি শুধরে নিয়ে ক্ষমা ও মাগফিরাতের দরিয়ায় বান্দা ডুবে যাবে। পুরো উম্মতকে নিয়ে ভাই ভাই হয়ে চলার শপথ নিবে। এই ইজতেমায় যেন সবাইকে এক ও নেক হওয়ার তাওফিক দান করেন।
সৈয়দ জাবের কাসেমী
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শরীফ। নির্বাহী সম্পাদক : তাসেরা তাজরীন। বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ আমান উল্যা।সম্পাদক ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: এমএস প্লাজা (৩য় তলা)২৭/সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
তুহিন প্রেস ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল হতে মুদ্রিত। ফোন: +৮৮-০২-৪১০৫২৪৯৪, মোবাইল: ০১৯৭১-৮৪২৩৬৫, ০১৭১১৮৪২৩৬৫, বার্তা: ০১৭৩১-৮৫৭১৮৬ ,anantabanglanews24@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক অনন্ত বাংলা. All rights reserved.